​প্রথম থেকেই বাঘকে ধরার সমস্ত প্রচেষ্টা একসঙ্গে নিয়ে এগোন শুরু করেছিল বনদফতর ৷ তারপরও প্রথম রাতে খুব একটা সুফল মেলে নি ৷ তাই আরও বড় পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ৷ কমপক্ষে ​​​ ​বাঘের ছবি জোগাড় করতে একসঙ্গে ১৪ টি বিশেষ ইনফ্রারেড ক্যামেরা লাগানো হল জঙ্গলে ৷ তবে তার আগে বাঘের প্রত্যক্ষদর্শী এলো সামনে ৷ পাতা ফাঁদ থেকে সামনেই দিনের বেলা বাঘকে দেখার দাবি গ্রামবাসীর ৷ তবে বনদফতরের দাবি বাঘ মঙ্গলবার বিকেলে বেলপাহাড়িতে রাজ্য-সীমান্তে হাজির হয়েছে ৷ যেতে পারে ঝাড়খন্ডেও ৷ যাওয়ার সম্ভাবনা বাঁকুড়া পুরুলিয়াতেও ৷ বাঁকুড়া বা পুরুলিয়াতে পাওয়া পায়ের ছাপ একই বাঘের বলেই দাবি করছে বন দপ্তর ৷  ​​  
 
সোমবার রাত কেটে গেলেও ক্যামেরা বা খাঁচাতে ধরা পড়লো না রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ৷ সাত সকালেই ঝাড়গ্রামের মালাবতীর জঙ্গলে গিয়ে খাঁচা পরীক্ষা করেন বনকর্মীরা ৷ দেখা গেল সবকিছু একই রয়েছে ৷ লাগানো একটি ক্যামেরাতে দেখা যায়নি কোনও ছবি ৷ তাই বনদফতরের পক্ষ থেকে বাঘ-এর ছবি তুলতে আরও ১৩ টি ক্যামেরা জঙ্গলের বিভিন্ন স্থানে লাগানোর ব্যাবস্থা হয় ৷ 
 
অন্যদিকে সকালেই বাঘকে নিজের চোখে  দেখেছন বলে দাবি করেন এক বাসিন্দা ৷ বিনপুর থানার পাথরচাকরি-তে বাঘ দেখতে পান গ্রামবাসী পতিত কর্মকার। জঙ্গলে পাতা আনতে যাওয়ার সময় তিনি বাঘ দেখেছেন বলে দাবি করেন ৷ বড়, হলদে গায়ে ডোরাকাটা দাগ ছিল প্রাণীটির।বাঘ বলেই দাবি পতিত কর্মকারের। তিনি বলেন- 'হঠাৎ জঙ্গলে ঢোকার সময় দেখলাম বেশকিছু পাখি চেঁচিয়ে উঠলো ৷ অস্বাভাবিক মনে হওয়া গিয়ে দেখলাম একটি বড় বাঘ দৌড়ে জঙ্গলের গভীরে চলে গেলো ৷' 
 
বনকর্তারা তাঁর কথা মতো তল্লাশিতে গিয়ে নতুন করে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পেয়েছেন বলেও খবর ৷ পেতে রাখা খাঁচা থেকে প্রায় সাতশো মিটার দুরত্বে এই নতুন পায়ের ছাপ দেখা গিয়েছে ৷ এরপরই আরও ১৩ টি ক্যামেরা লাগানোর ব্যাবস্থা করেছে বনদফতর ৷মঙ্গলবার পরিস্থিতি দেখতে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যবনপাল শক্তিশঙ্কর দে ৷ তিনি বলেন- এদিনের বাঘের শেষ পায়ের ছাপ ধরা পড়েছে বেলপাহাড়ির শেষপ্রান্তে ৷ যেখান থেকে খুব সামনে ঝাড়খন্ড যাওয়া ৷ তবে যেতে পারে পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়াও ৷ একটাই বাঘ রয়েছে ৷ যে গতিতে এগোচ্ছে সে ঝাড়খন্ডে গেলেও যেতে পারে ৷ তাই খাঁচাও সরিয়ে পাতা হয়েছে ৷ তবে বাঁকুড়া বা পুরুলিয়া , ঝাড়গ্রামে পাওয়া পায়ের ছাপ একই বাঘের ৷