শাজাহান আলি, ঝাড়গ্রাম-স্কিন ক্য়ান্সারে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতার হাসপাতালে মৃত্যু হয় ডেপুটি স্পিকার সুকুমার হাঁসদার। ঝাড়গ্রামের দুবরাজপুরের বাসিন্দা তিনি। জঙ্গল শহর ঝাড়গ্রাম থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে সেই গ্রাম। তবে তিনি থাকতেন ঝাড়গ্রাম শহরেই। ঝাড়গ্রাম শহর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন তিনি। তৃণমূলের টিকিটে দুবারের বিধায়ক এবং ডেপুটি স্পিকারও ছিলেন তিনি। 

আরও পড়ুন-শক্তি বাড়ল বায়ু সেনার, ৪ হাজার কিমি দূরের শত্রুকে ধ্বংস করতে সক্ষম ব্রাহ্মোস

মৃত্যুর আগে সুকুমার হাঁসদা তাঁর পরিবারের জানিয়ে গিয়েছিলেন, ''তাঁর শেষকৃত্য যেন নিজের কেনা নতুন জমিতে হয়''।  সুকুমার বাবুর ইচ্ছামতো, সেই জমিতেই শবদাহের প্রস্তূতি নিচ্ছিলেন পরিবার ও প্রশাসন। তখনই বাধা দেন আদিবাসী সমাজের লোকেরা। তাঁরা বলেন, আদিবাসী সমাজের পূর্ব পুরুষের নিয়ম অনুযায়ী, মৃত্যুর পর কোনও আদিবাসী ব্যক্তির শবদাহ বা সমাধিস্থ করতে হলে তাঁর জন্মস্থানের আশেপাশে করতে হয়। 

আরও পড়ুন-বিশ্ব নবি দিবসের মিছিলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে প্রাণ হারালেন দু'জন

স্থানীয় আদিবাসী সমাজের পক্ষ থেকে লালমোহন মূর্মূ বলেন, ''আমরা সুকুমার হাঁসদাকে সম্মান দিলেও, আমরা পূর্বপুরুষের করা নিয়মকে অসম্মান করতে পারি না। সুকুমার বাবুর জন্মস্থান যেহেতু এখানে নয়, তাই এখানে দেহ পোড়াতে দেওয়া হবে না''। এই অবস্থায় সুকুমার হাঁসদার দেহ নিয়ে বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত টানাপোড়েন চলতে থাকে।

আরও পড়ুন-তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল ঘিরে বোমাবাজি-উত্তেজনা, পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের ধরপাকড়

অবশেষে, পরিবারের অনুরোধে নির্দিষ্ট শর্তে শবদাহের অনুমতি দেয় আদিবাসী সমাজ। তাঁদের শর্তানুযায়ী, শবদাহ স্থলের তিন কাঠা জমি শ্মশানের নামে রেজিস্ট্রি করে দিতে হবে। সেই দাবির আশ্বাস দেওয়ার পর শবদাহের প্রক্রিয়া শুরু হয়। গানস্যালুটে রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় শেষকৃত্য় সম্পন্ন হয় সুকুমার হাঁসদার।