ফের প্রেমিকার বাড়ির সামনে প্রেমিকের ধরনায় বসার ঘটনা ঘটল। এবার শুধু প্রেমিক নয়, প্রেমিকের বাবা, মা থেকে শুরু করে বাড়ির লোকজনও ওই ধরনায় সামিল হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রামের খয়েরবনী গ্রামে।  এর আগে এরাজ্যে উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসত, হুগলির আরামবাগ ও বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরেও একই ঘটনা ঘটেছে।

পিস্তল নিয়ে অমিত শাহের সভায় ব্যক্তি, জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ
স্কুলে পড়ার সময় থেকেই মেয়েটির সঙ্গে পরিচয় স্থানীয় মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা অনির্বান মাহাতোর। পরিচয়পর্ব থেকে তা কবে প্রেমে গড়িয়ে গিয়েছে তা তারা ভাবতেও পারেননি। বর্তমানে মেয়েটি বিএড ছাত্রী আর ছেলেটি জলপাইগুড়িতে এক সরকারি কলেজে এমটেক পাঠরত। দুজন দু জায়গায় থাকলেও তাদের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগও ছিল ফোনের মাধ্যমে। এমনকী ছেলেটির বাড়িতে একাধিকবার পৌঁছেও গিয়েছে মেয়েটি। 

মানুষ নয় ১০০ দিনের কাজের বরাত জেসিবি মেশিনকে, পুরুলিয়ায় চরম কেলেঙ্কারি

মনে মনে তাকে হবু পুত্রবধূ হিসেবে মেনেও নিয়েছিলেন ছেলের বাবা সুধীর মাহাতো ও মা সবিতা মাহাতো। এতদূর সবকিছুই ঠিক চলছিল। কিন্তু তাল কাটল কিছুদিন আগে। ধরনায় বসা খোদ প্রেমিক অনির্বাণের কথায়, দীর্ঘ সাত বছর তাদের সম্পর্ক । বাড়ি থেকে শুরু করে গোটা গ্রাম ও আশপাশের এলাকাও সব জানে। এমনকী নিজের প্রেমিকার হয়ে অনেক অপমানও তাকে সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন আগেই হঠাৎ করে তার প্রেমিকা তাকে জানিয়ে দেয় যে, সে তাকে বিয়ে করতে পারবে না। 

তার বাড়ি থেকে নাকি অন্য কোথাও বিয়ের সম্বন্ধ দেখা চলছে। নিজের প্রেমিকার কাছে এ খবর পেয়ে তিনি যেন আকাশ থেকে পড়েন। ফোনেই যোগাযোগ করেন মেয়ের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে। কিন্তু তিরস্কৃত হন। এরপর থেকে কোনওভাবে যোগাযোগ করতে না পেরে তিনি এদিন বেলা নটা নাগাদ সপরিবারে চলে আসেন সটান মেয়ের বাড়িতে। মেয়ে তখন বাড়িতে ছিল না। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে দিঘা বেড়াতে গিয়েছে ২৪ ঘন্টা আগেই। অগত্যা তার বাড়ির সামনেই ধরনায় বসে পড়েন অনির্বাণ ও তার পরিবারের সদস্যরা। 

দিদিকে বলো-তে ফোন করার ডাক, মঞ্চ থেকে এ কী বললেন অমিত শাহ

হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘আমার ৭ বছরের ভালবাসা ফিরিয়ে দাও।’ সেইসঙ্গে দুজনের একসঙ্গে কাটানো নানান মুহুর্তের ছবি। ধরনায় বসা অনির্বাণের বাবা-মাও বলেছেন, ছেলের বা আমাদের কি দোষ, সেটাই আমরা জানতে পারলাম না। এভাবে তাদের একমাত্র ছেলের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি কেন? তার ছেলে কোনও অঘটন ঘটিয়ে বসলে তার দায় কে নেবে। এদিকে মেয়েটির দাদা দীপক মাহাতো স্বীকারও করেছেন যে একসময় তার বোনের সঙ্গে ছেলেটির সম্পর্ক ছিল। তার কথায়, তার বোন হয়তো ছেলেটির সঙ্গে মিশে বুঝতে পেরেছে যে তার সঙ্গে সারা জীবন একসাথে চলা সম্ভব নয়। তাই সে হয়তো সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। 

তার বোন নিজে যদি না চায় তাহলে তারা কি জোর করে বোনের বিয়ে দিতে পারেন। নিশ্চয় ও বোনের বিশ্বাসে আঘাত করেছে। এমনকী বোনের অন্যত্র সম্বন্ধ এলেও ভাঙিয়ে দিচ্ছে। তার উপর এ ধরনের নোংরামি করে যাচ্ছে। এদিন সকালে লোকজন নিয়ে সে বাড়িতে চলে আসে। প্রথমে ঘরের ভেতরেই বসেছিল। কিন্তু বোন নেই জানতে পেরে বাড়ির সামনে লোকজন নিয়ে বসে পড়েছে। বিষয়টি তারাও বিভিন্ন মহলে জানিয়েছেন। জানা গিয়েছে, যে পুলিশ এসেও প্রেমিক ও তার পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে।