ম্যানিলা থেকে কুয়ালালামপুর। তারপর আর দেশে ফেরা যাচ্ছে না। বর্তমানে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর আটকে দুই'শ ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রী। একথা কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও-তে কলকাতায় থাকা বাবা-মা-এর কাছে পাঠিয়েছে এক ছাত্রী। 

এই ভিডিও এই মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়েছে নেটদুনিয়ায়। ওই হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিো-তে পরিস্কার বাংলায় ছাত্রীটি জানিয়েছেন, ম্যানিলায় তাঁরা একটি মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করেন। তিনি সেই মেডিক্যাল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। 

করোনাভাইরাসের জেরে ম্যানিলায় সমস্ত কিছু বন্ধ করে দিয়েছে সে দেশের সরকার। এমনকী মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলও বন্ধ। অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী বাড়ি চলে গিয়েছেন। কিন্তু সমস্যায় পড়ে যায় বিদেশি ছাত্র-ছাত্রীরা। বাঙালি ওই ছাত্রী ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ম্যানিলা থেকে ভারতে ফেরার বিমান না পেয়ে তাঁরা দিন কয়েক আগে কুয়ালালামপুর চলে আসেন। 

তাঁরা মনে করেছিলেন কুয়ালালামপুর থেকে নিশ্চিতভাবে কোনও না কোনও বিমান পাবেন ভারতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু, যেদিন ভারতীয় ছাত্রীদের দলটি কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে পৌঁছয় তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতে যাওয়ার উড়ান বন্ধ হয়ে যায়। 

 

এরপর ওই ছাত্রীরা ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু সফল হননি তাঁরা। বিমানবন্দর থেকেই এরপর কলকাতায় থাকা পরিবারকে ভিডিও বার্তা পাঠায় ওই ছাত্রী। 

জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীর বাবার নাম রামদুলাল মান্না। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের এক বিশিষ্ট আইনজীবী। যদিও এই নিয়ে রামদুলালের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁর দুটি নম্বরই বন্ধ। 

ভিডিও বার্তায় ওই বাঙালি ছাত্রী ভারত সরকারের কাছে হাতজোড় করে আবেদন করেছেন যাতে তাঁদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করা যায়। এদিকে, ওই মেয়েটির পরিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও আবেদন রাখছেন, যাতে কোনও উদ্ধারকারী বিমান পাঠিয়ে দুইশ ছাত্রী-কে কুয়ালালামপুর থেকে দেশে ফেরানো যায়।