রাতের কলকাতার রাস্তায় বাইকবাজদের নৈরাজ্য। সেই ঘটনায় আঙুল উঠেছে পুলিশি নিস্ক্রিয়তার। দিন কয়েক আগেই মিস ইন্ডিয়া উষসী সেনগুপ্তর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছিল প্রশাসন। পরিকল্পনামাফিক শুরু হয় অভিযান। সেই অভিযানে নেমে নিগ্রহের শিকার হল পুলিশই। 

ঘটনা গত সোমবার রাতের।  সারা শহর জুড়েই বাইকবাজদের ওপর নাকাতল্লাশি চালাচ্ছিল কড়েয়া থানা ও ইস্ট ট্রাফিক গার্ডের ট্রাফিক পুলিশেরা। তল্লাশি চলছিল বেকবাগানের কোয়েস্ট মলের কাছেও। উদ্দেশ্য একটাই হেলমেটবিহীন দামাল বাইকবাজদের  ধরা, কাগজপত্র যাচাই। এই সময়েই ট্রাফিক গার্ড তপন ওরাও লক্ষ্য করেন উল্টো দিক থেকে ঝড়ের গতিতে ছুটে আসছেন এক বাইকবাজ। তাকে ধরতে উদ্যত হন তপনবাবু। কিন্তু বিপদের গন্ধ বুঝে থামা তো দূরে থাক গতি আরও বাড়িয়ে দেয় ওই বীরপুঙ্‌গব। তাপসবাবু বাইকটি থামাতে গেলে তাঁর হাত আটকে যায় বাইকের পিছনের হাতলে। এই অবস্থায় তাঁকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে ওই বাইকার। প্রায় ১০০ মিটার মাটিতে ঘষতে ঘষতে এগোন তপন ওড়াও। তারপরে ক্ষতবিক্ষত দেহটা মাটিতেই লুটিয়ে পড়ে।


আরও পড়ুনঃ মধ্যরাতের বাইকবাজরা সাবধান, আদাজল খেয়ে নামল কলকাতা পুলিশ
ঊষসীর পরে এবার মহিলা বক্সার, কলকাতায় পুলিশি নিস্ক্রিয়তার আরও এক ছবিতে উঠছে প্রশ্ন

তপনবাবুর সহকর্মীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার বন্দোবস্ত করেন। পুলিশ ওই বাইকবাজের খোঁজ চালাচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ।
প্রসঙ্গত উষসী কাণ্ডের পর থেকেই পালা করে চলছে বাইকবাজদের নাকা চেকিং। ৪৮ টি জায়গায় শুরু হয়েছে চেকিং। ধরপাকড়ে একেক রাতে পুলিশের জালে জড়িয়ে পড়ছে ২০০০ এর বেশি বাইকবাজ। কেউ হেলমেট ছাড়াই চলছে. কারও আবার নেই বৈধ লাইসেন্স। ধরা পড়ছে মদ্যপ আরোহীও। রাতের কলকাতার চিত্রটাই যে বদলে যায় এদের দৌরত্মে তা এবার আরও ভাল ভাবে বুঝল পুলিশ।