বাইকবাজের দাপট যেন সিনেমাকেও হার মানাবে। শহর জুড়ে তারা ছড়ি ঘোরাবে দিন রাত। হেলমেটের বালাই নেই। সাধারণ থেকে জনপ্রিয় অভিনেত্রী, বাইকবাজদের দাপট থেকে পার পাবে না কেউ। এই চিত্রটাই বদলাতে চায় এবার কলকাতার ট্রাফিক পুলিশ। তাই ৪৮ টি জায়গায় শুরু হল নাকা চেকিং। ধরপাকড়ে এক রাতেই ধৃতের সংখ্যা ২১৭৮।

গত ১৮ জুন  শহরে মধ্যরাতে নিগ্রহের শিকার হন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী উষসী সেনগুপ্ত। সেগদিন রাতে নিজের সহকর্মীর সঙ্গে একটি অ্যাপ ক্যাবে চড়ে কর্মস্থল থেকে দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। এক্সাইড মোড়ে একদল বাইকবাজ তাঁর গাড়িটিতে ধাক্কা মারে। অপরাধ করে ক্ষমা চাওয়া তো দূরে থাক। উল্টে ওই গাড়ির চালককেই বাইরে বের করে ওই যুবকরা বেধড়ক মারধর করতে থাকে।

ঊষসী সেনগুপ্ত ঘটনায় সাহায্য চাইতে গেলে প্রথমে ময়দান থানা থেকে তাঁকে ভবানীপুর থানায় যেতে বলা হয়। পরে ওই যুবকরা ফের প্রিন্স আনওয়ার শাহ রোডে ঊষসীদের উপরে চড়াও হলে চারু মার্কেট থানায় অভিযোগ জানাতে যান ঊষসী। সেখান থেকেও তাঁকে ফের ভবানীপুর থানায় যেতে বলা হয় বলে অভিযোগ। 

ঘটনা জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তিন পুলিশ কর্তাকে শো-কজও করা হয়। কিন্তু অন্য একটি প্ৰশ্ন ওঠে। কী ভাবে বেলাগাম বাইকবাজরা শহরের ইতিউতি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে নানা ধরনের পক্ষপাতেরও অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের বোঝা ঝেড়ে ফেলতেই এবার তৎপর হয়েছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ। স্থির হয় নানা জায়গায় নাকা চেকিং হবে। 

বাইকবাজদের অপরাধের তালিকাটা বেশ লম্বা। গাড়ির কাগজপত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ। লাগাম ছাড়া গতিতে বাইকবাজি, হেলমেট বিহীন অবস্থায় অবাধ বিচরণ, মদ্যপ অবস্থায় বাইক চালানো, এক বাইকে তিন সওয়ারি, কাউকেই রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। শনিবার রাতেই শুধু এরকম ঘটনাতেই ধরা হয়েছে ২ হাজার ১৭৮ জনকে।

এই চেকিং টানা চললে বাইকবাজ বীরপুঙ্গবদের শিক্ষা হবে।