নারদাকাণ্ডে চার হেভিওয়েটকে গ্রেফতারের পরই উত্তাল রাজ্য়-রাজনীতি। উল্লেখ্য, এদিন নারদকাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের ৪ জন প্রাক্তন এবং বর্তমান মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে নিজাম প্য়ালেসে নিয়ে হয়েছে। এরপরেই নিজাম প্য়ালেসে পৌছে যান মমতা। দুপুর গড়াতেই সিবিআই সদর দফতরকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু হয়। নিজাম প্যালেসের পর রাজভবনের সামনেও চলে বিক্ষোভ। এদিকে এই মুহূর্তে কোভিডে ভয়াবহ অবস্থার জেরে কার্যত লকডাউন চলছে রাজ্য়ে। এই পরিস্থিতিতে লোকজনের জমায়েত হওয়া মানেই সংক্রমণ ছড়ানো আশঙ্কা। আর তাই এবার টুইট করে রাজ্যবাসীর কাছে শান্তি বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানালেন তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়।
 
আরও পড়ুন, 'আগে আমাকে গ্রেফতার করুন, না হলে CBI দফতর ছাড়ব না', বিস্ফোরক মমতা 

 

 

অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায় বলেছেন, 'বাংলার ভবিষ্যতের কথা ভেবে দয়া করে লকডাউন বিধি ভাঙবেন না। দয়া করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ করছি সবাইকে।' প্রসঙ্গত,  ফিরহাদ-মদন-সুব্রত-শোভনকে গ্রেফতারের পর সকাল ১০ টা ৪৭ মিনিটে নিজাম প্য়ালেসে পৌছন মমতা।সূত্রের খবর, সিবিআই আধিকারিকদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন আগে তাঁকে গ্রেফতার করতে হবে, তা না হলে তিনি সিবিআই দফতর ছাড়বেন না। এরপরেই কোভিড পরিস্থিতিতে কার্যত লকডাউনের মাঝেই গ্রেফতারির প্রতিবাদে নিজাম প্যালেসের বাইরে তৃণমূলের বিক্ষোভ শুরু হয়। দুপুর ১২ টার পরে রাস্তায় তৃণমূল কর্মীরা বসে পড়েন। পোস্টার ব্যানার নিয়েও হাজির হন অনেকেই। দুপুর গড়াতেই সিবিআই সদর দফতরকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু হয়। নিজাম প্যালেসের পর রাজভবনের সামনেও চলে বিক্ষোভ। এখানেই শেষ নয়,নিউটাউনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কুশপুতুল দাহ করে তৃণমুল কর্মী সমর্থকরা। পাশাপাশি রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমুল। একই ভাবে এদিন বিক্ষোভ দেখানো হয় বেলঘরিয়া রথতলা মোড়ে। আর তাই এমন কঠিন পরিস্থিতিতে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং করোনা সংক্রমণ আরও বেশি ছড়ানোর আশঙ্কায় উদ্বেগ নিয়েই টুইট বার্তা অভিষেকের।

আরও পড়ুন, 'মুখ্যমন্ত্রীই আইন-শৃঙ্খলা ভাঙছেন', নারদকাণ্ডে বিস্ফোরক দিলীপ 

 


অপরদিকে, কোভিড পরিস্থিতিতে তৃণমূলের বিক্ষোভ এবং নিজাম প্যালেসে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের যাওয়া নিয়ে তোপ দেগেছেন দিলীপ।  'মুখ্যমন্ত্রীর  দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা, কিন্তু উনিই আইন ভাঙছেন' এমনও বলেছেন তিনি। উল্লেখ্য, এদিন সকালেই নারদ কাণ্ডে সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হন ফিরহাদ হাকিম।  চেতলায় তাঁর বাসভবন থেকেই গ্রেফতার করা হয় রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রীকে। গ্রেফতারির সময় স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয় কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দাদের। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। ফিরহাদ হাকিমের দাবি, গ্রেফতারির আগে তাঁকে আগাম কোনও নোটিশও দেওয়া হয়নি। এবং এই একই ঘটনার তদন্তে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এবং প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রাক্তন বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।  আইপিএস অফিসার এসএমএস মির্জাকেও আনা হবে। জানা গিয়েছে, এদিনই  নারদ কাণ্ডের তদন্তে, রাজ্যের ৪ প্রাক্তন মন্ত্রী এবং এক আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করছে সিবিআই।