"হাই, আমি লোপাদৃতা, আপনারা হয়তো অনেকেই আমাকে চেনেন না, কিন্তু আজকে আমি যে মেসেজটা করছি, আপনাদের কাছে রিকোয়েস্ট থাকবে, কাইন্ডলি পুরো মেসেজটা শুনুন এবং এই মেসেজের গুরুত্বটা বুঝুন। আপনারা নিজেদের কনট্য়াক্ট লিস্টের মধ্য়ে সবাইকে শেয়ার করুন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় স্প্রেড করুন।"

ভাঙা-ভাঙা বাংলা উচ্চারণে খানিক হিন্দি-ইংরিজির টান। সোশাল মিডিয়ায় অজ্ঞাত পরিচয় মহিলার কণ্ঠে এই বার্তাই এখন 'রটি গেল ক্রমে', করোনাভাইরাসে আক্রান্ত একজন মানুষের ভিড়ে মিশে গিয়েছেন। যার অন্তর্নিহিত অর্থ খুব স্পষ্ট, এই লোকটিতে খুঁজে বের করতে না-পারলে সামনে ঘোরতর বিপদ। বক্তার নাম বা পরিচয় কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর বার্তায় শুধু  যেন এক অন্তর্ঘাতের ভবিষ্য়দ্বাণী।  যেন গায়ে কাঁটা দেওয়া এক থ্রিলার!

শোনা যাক মহিলার কণ্ঠেই-- ফার্স্টে আমি দুটো ফ্য়াক্ট বলছি।  করোনাভাইরাস এই মুহূর্তে চিন ছাড়া আরও ২৬টা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তথ্য় প্রযুক্তির দিক থেকে আমাদের দেশ এগিয়ে থাকলেও অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে মেডিকেল ফিল্ডে। থাইল্য়ান্ডের একজন ভদ্রমহিলা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এবং  আমাদের ইনফর্মেশন দেওয়া হয়েছিল, ১৪ দিন কোয়ারানটাইন, অর্থাৎ একলা ঘরে রাখতে হবে একজনকে। স্পেশ্য়াল অবজার্ভেশনের মধ্য়ে ১৪ দিন রাখতে হবে। এবং এই ১৪ দিনের ফেজের মধ্য়ে যে কোনও সময়ে, করোনাভাইরাসের যে টেস্টটা হয়,  ওই টেস্টটা পজিটিভ আসতে পারে। মানে এরকম হতেই পারে,  ১৩ দিন পরপর ওই টেস্টটা করা হয়েছে, কিন্তু ১৪ দিনের মাথায় করোনাভাইরাস পাওয়া গিয়েছে।...থাইল্য়ান্ডের যে ভদ্রমহিলা, উনি চিনে যানওনি, কিন্তু উনার কনট্য়াক্টস এমন ছিল যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এবার আমি একটা পোস্ট শেয়ার করছি, দ্য়া ফোর্থ কলাম বলে একটা পোস্ট আমি দেখাম। যেখানে আমি দেখলাম, ২৬ জানুয়ারিতে চিন থেকে একজন ফিরে এসেছেন হ্য়ামিলটনগঞ্জে। আমাদের পুরো ওয়ার্ল্ড স্ট্য়ান্ডার্ড মেনটেন করতে গেলে ১৪ দিন একদম আলাদা করে তাঁকে রেখে দিতে হবে। কোয়ারানটাইন যাকে বলে। এখনও পর্যন্ত উনার ১৪ দিন হয়নি( অডিও বার্তাটি আমাদের কাছে এসেছে দিনদুয়েক আগে)। ওনার মধ্য়ে যদি সুপ্তভাবে থেকে থেকে থাকে ওই ভাইরাস, তাহলে এই ক-দিনে উনি যতজনের সংস্পর্শে আসবেন, একটা বড় ম্য়াসাকার হতে পারে।... আমি কাগজে এটাও পড়লাম, আলিপুরদুয়ার স্বাস্থ্য় দফতরের থেকে গিয়ে দেখে এসেছে ওর পরিবারের সবাই ভাল আছেন। সবাই ভাল থাকতেই পারেন আজকে। কিন্তু এরা দু-সপ্তাহ ধরে কোয়ারানটাইনের থাকার পর ঠিক থাকলে তবেই সুস্থ আছেন বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে। এই ভদ্রলোককে অবিলম্বে আলাদা করে রাখতে হবে। না-হলে আমাদের এখানে স্বাস্থ্য় ব্য়বস্থা এমন যে, এটা যদি একবার ছড়ায় তাহলে আমাদের কী হবে তা আপনিও জানেন আমিও জানি। চায়না এত চেষ্টা করেও আটকাটে পারছেনা। আমি শুনেছি ওই ভদ্রলোক কলকাতায় এসে রয়েছেন।

অর্থাৎ তাঁকে অবিলম্বে খুঁজে বের করা দরকার, এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন অজ্ঞাত পরিচয় রহস্য়ময়ী। দিনকয়েক ধরে সোশাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে এই বার্তা।