দুর্গাপিতুরি লেনের পর এবার স্যাঁকরাপাড়া লেন। বুধবার সকালে বউবাজারে ভেঙে পড়ল তিনতলা বাড়ির একাংশ। কম্পন অনুভূত হচ্ছে পাশের বাড়িগুলিতে। হেলে পড়েছে আরও বেশ কয়েকটি বাড়ি। সব মিলিয়ে কলকাতায় আজ আতঙ্কের নাম বউবাজার।

এ যেন ১০ মিনিটে জীবন পাওয়ার সমান। হাইকোর্টের নির্দেশে বাড়ির জিনিসপত্র নেবার সুযোগ পেলেন বউবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বাসিন্দারা। নিজের বাড়িতে ঢুকতে স্লিপ নিতে হচ্ছে সবাইকে। এমনকী পুলিসের তত্ত্বাবধানে বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন মাত্র একজন। ঘরের মূল্যবান জিনিস নিতে কেউ প্য়াকেট কেউ বা নিয়ে এসেছেন বস্তা । কিন্তু নিজের বাড়িতে সবাইকেই যেতে দাঁড়াতে হচ্ছে লাইনে। পরিস্থিতি দেখে চোখে জল এসে যাচ্ছে বাসিন্দাদের।

আরও পড়ুন ;১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ মেট্রোর কাজ, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

আরও পড়ুন :মুহূর্তে গুঁড়িয়ে গেল তিনতলা বাড়ি, দুর্গা পিতুরি লেন জুড়ে হাহাকার

গতকালই দুর্গাপিতুরি লেনে ভেঙে পড়ে তিনতলা বাড়ি। সবার সঙ্গে বাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখতে এসেছেন বাড়ির বাসিন্দা। সবাই যখন লাইনে দাঁড়িয়ে তখন বাড়ির জন্য হাহাকার মহিলার গলায়। সবাইকে তিনি বলছেন, 'তোমরা বাড়িতে যেতে পারছ। আমার তো বাড়িটাই নেই।' ইতিমধ্য়েই সতর্কতা হিসাবে আরও ২০টি বাড়ি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়েছে আরও বেশকিছু বাড়ি। বউবাজারের দুর্গা পিতুরি লেন জুড়ে এখন শুধুই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে হাহাকার। 

এদিকে ফের সুরঙ্গের দেওয়াল ঘেঁষে বালির বস্তা বসানো হচ্ছে। বিপত্তি এড়াতে টানেলে আরও দুই স্তরে প্রাচীর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনায় বোর্ড মাটিং ডাকল কেএমআরসিএল। ডিসি সেন্ট্রালের সঙ্গে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা দেখতে এসেছেন তিন সদস্য়ের প্রতিনিধি দল। যাদের মধ্যে দুই মাটি পরীক্ষক ছাড়াও রয়েছেন একজন সুরঙ্গ বিশেষজ্ঞ। এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে শুধু হয়েছে পর্যালোচনা।

আরও পড়ুন :নতুন বাড়ি তৈরি করে দেবে মেট্রো, বউবাজার কাণ্ডে রাজ্যের প্রস্তাব মানল রেল 

আরও পড়ুন :সমস্য়ার সমাধান হয়ে গেছে ভাবাটা সত্যের অপলাপ হবে, বললেন শোভন

ইতিমধ্য়েই বউবাজারে মেট্রোর কাজের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি নতুন করে তৈরি করে দেবে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মেট্রো কর্তাদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তেই নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়েও রাজ্য সরকারের তরফে মেট্রো রেলকে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যে বাড়িগুলি মেরামতি সম্ভব নয়, সেগুলি ভেঙে নতুনবাড়ি তৈরি করে দিতে হবে। এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছে মেট্রো। বাকি বাড়িগুলি সারিয়ে দেবে মেট্রো রেল। 
দোকানের বদলে দোকান তৈরি করে দিতে হবে। এতেও সম্মতি দিয়েছে মেট্রো রেল।