রান্নাঘরের শস্য়ের কৌটোগুলির এবার দম নেবার দিন আসছে। বর্ষা ঢুকলেই  এবার বাজারে বড় ইলিশের সম্ভাবনা। দীর্ঘ লকডাউনের জেরে মাছ ধরা স্থগিত। যার জেরে বাঙালির জীভও জ্বলে উঠল বলে। পাত পেড়ে এবার বড় সাইজের ইলিশ ভাপে খেয়ে বাঙালি আর নড়তে না পারবে বোধয়। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বড় সাইজের ইলিশের আশার কথা শুনিয়েছেন। রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাও সহমত প্রকাশ করেছেন। এ বছর ইলিশের পর্যাপ্ত ফলন এবং আকার বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি প্রবল আশাবাদী।

 

 

আরও পড়ুন, কলকাতায় কেন্দ্রীয় দলের সঙ্গে থাকা ৬ বিএসএফ করোনা আক্রান্ত, কোয়রান্টিনে আরও ৫০

 

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গত ২৪ মার্চ থেকে মাছ ধরা বন্ধ লকডাউনের জন্য। অপরদিকে, এমনিতেই পূর্ব উপকূলে ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত মাছ ধরার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। এই দুই মিলিয়ে মাছ না ধরায়  চলতি বছরে সময়সীমা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলশ্রুতি, বাড়তি ওজনের পর্যাপ্ত ইলিশের জোগান। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য,  নদীতে জন্ম নেওয়া চার ইঞ্চি ইলিশ চারা সমুদ্রে ফিরে এক বছরে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের হয়ে ওঠে। তারপরের ছয় থেকে আট মাসে তা ২ কেজির কাছাকাছি ওজনের হয়ে দাঁড়ায়।  ২৪ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল বাড়তি সময়টায়  একটি মাছ ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম ওজন বাড়াতে সক্ষম হবে।

আরও পড়ুন, দুর্দিনে বাংলার কোনও দোকানকেই ভোলেনি সুরাপ্রেমীরা, ১০ ঘণ্টায় সাবাড় ১০০ কোটির মদ

 

 বিশেষজ্ঞদের মতে, লকডাউনের ফলে দূষণমুক্ত হওয়ায় জলে মাছের খাদ্য প্লাংকটন রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। যার দরুণ ইলিশ মাছ নিজেরাও পেট ভরে খাবার পাচ্ছে। অপরদিকে, দূষণ না থাকার ফলে জলে অক্সিজেনের পরিমাণ এখন বেশি। এর জন্য় ইলিশের ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ আরও একটা রয়েছে। মৎস্য মন্ত্রী জানিয়েছেন, গত বছর ইলিশ খুব একটা বেশি ওঠেনি। তাঁর বক্তব্য, 'অতীতে দেখা গিয়েছে এক বছর ফলন কম হলে পরের বছর বেশি মাছ আসে আসে। এছাড়া লকডাউনের ফলে আবহাওয়া দূষণমুক্ত থাকায় এবং মাছধরা টানা বন্ধ থাকার ফলে মাছের ওজন বৃদ্ধি হবে বলেই মনে হচ্ছে।'