রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের বিরুদ্ধে গতকাল 'স্বজনপোষণ'-এর অভিযোগ তুলেছিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর অভিযোগ, রাজভবনে নিজের আত্মীয়দের অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি বা ওএসডি হিসেবে নিয়োগ করেছেন রাজ্যপাল। নিজের অভিযোগের স্বপক্ষে টুইটারে একটি তালিকাও প্রকাশ করেছিলেন মহুয়া। আর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এর জবাব দিলেন রাজ্যপাল। মহুয়ার অভিযোগ 'তথ্যগতভাবে ভুল' বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে সেখানেও থেমে থাকেননি মহুয়া। কীভাবে ওই ওএসডি-দের নিয়োগ করা হয়েছে ও তাঁদের অতীত পরিচয় কী তা জানতে চেয়ে পাল্টা একটি টুইট করেছেন তৃণমূল সাংসদ।  

আরও পড়ুন-"আঙ্কেলজি আপনি গেলেই রাজ্যের উদ্বেগজনক পরিস্থিতির উন্নতি হবে", রাজ্যপালকে খোঁচা মহুয়ার

গতকাল রাজ্যপালের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে টুইটারে একটি তালিকা প্রকাশ করেছিলেন মহুয়া। যেখানে লেখা ছিল, "ভুদয় সিংহ শেখাওয়াত রাজ্যপালের ব্রাদার ইন ল-র ছেলে। অখিল চৌধুরী নিকট আত্মীয়। রাজ্যপালের প্রাক্তন এডিসি গৌরাঙ্গ দীক্ষিতের স্ত্রী রুচি দুবে। প্রশান্ত দীক্ষিত গৌরাঙ্গ দীক্ষিতের ভাই। বর্তমানে যে এডিসি রয়েছেন তাঁর ব্রাদার ইন ল কৌস্তভ ভালিকার। কিষাণ ধনখড় রাজ্যপালের নিকট আত্মীয়।" 

 

 

এরপর আজ সকালে পাল্টা টুইট করে এই অভিযোগ 'তথ্যগতভাবে ভুল' বলে দাবি করেন রাজ্যপাল। তিনি লেখেন, "মহুয়া মৈত্র টুইট করে ৬ জন ওএসডি-র নিয়োগ ঘিরে স্বজনপোষণের যে অভিযোগ তুলেছেন, তা তথ্যগতভাবে ভুল। তাঁরা তিনটি আলাদা রাজ্যের বাসিন্দা। ৪ ভিন্ন বর্ণের। তাঁদের কেউই আমার নিকট আত্মীয় নন। ৪ জন তো আমার রাজ্যের বাসিন্দাও নন, এমনকি আমার বর্ণেরও নন।"

সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে আরও একটি টুইট করেন জগদীপ ধনখড়। তিনি লেখেন, "রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে নজর ঘোরাতেই এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সংবিধানের ১৫৯ নম্বর ধারা অনুসারে রাজ্যের মানুষের জন্য আমার কাজ আমি করে যাব।"

 

 

তবে দমবার পাত্রী নন মহুয়া মৈত্র। আজ সকালে ফের একটি টুইট করেন তিনি। সেখানে লেখেন, "রাজভবনে যাঁদের ওএসডি নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁদের অতীত পরিচয় কী সেটা এখানে জানাতে অনুরোধ করছি। একই সঙ্গে অনুরোধ করছি এটাও জানাতে, কী ভাবে ওই ৬ জনকে রাজভবনে নিয়োগ করা হল। বিজেপি-র আইটি সেল এখান থেকে আপনাকে বার করে আনতে পারবে না। দেশের উপরাষ্ট্রপতির পদও মনে হয় অধরা থেকে গেল।"