গত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু করে লোকসভা নির্বাচনে রাজ্য়ের শাসকদলের সঙ্গে সমানে টক্কর দিয়েছিলেন জেলার বিজেপি কর্মীরা। লোকসভা নির্বাচনে জেলায় তৃণমূলকে কার্যত মুছে দিয়েছিলেন তাঁরা। আজ সেই কর্মীরাই যখন পুলিশি হয়রানির মুখে আতঙ্কে ঘরছাড়া, তখন পাশে নেই দলের নেতৃত্ব।

মাসদেড়েক আগে ৬ জানুয়ারি পুরুলিয়ার বিজেপির অভিনন্দন যাত্রা বেরিয়েছিল। সেই মিছিলে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে। তারপর থেকেই রাতবিরেতে চলতে থাকে ধরপাকড়। আতঙ্কে ঘরছাড়া জেলার বহু বিজেপি কর্মী। আর যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন গত ৪৫ দিনে, তাঁদের অনেকেই ছাড়া পাননি এখনও অবধি।  আর এই কঠিন পরিস্থিতিতে কর্মীদের পাশে নেই দলীয় নেতৃত্ব। অন্তত অভিযোগ তেমনটাই।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে যেখানে রাজ্য়ের বহু জায়গায় মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি বিরোধীরা, তখন পুরুলিয়ায় কিন্তু শাসকদলের সঙ্গে সমানে টক্কর দিয়েছেন জেলার বিজেপি কর্মীরা। গত লোকসভা নির্বাচনেও কার্যত তৃণমূলকে ধরাশায়ী করেছেন এখানকার বিজেপি কর্মীরা। অথচ, সামনে যখন পুরসভা নির্বাচন, তখন কর্মীরা পাশে পাচ্ছেন না দলকে। তাই রীতিমতো ক্ষুব্ধ জেলার নিচুতলার বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। এভাবে চলতে থাকলে আগামী পৌরসভা নির্বাচনে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে পারা যাবে বলে মনে করছে না দলের একটা বড় অংশ। পুরসভা নির্বাচনের মুখে  দলের বহু কর্মী যখন ঘরছাড়া, তখন  ঝালদা শহর বিজেপি সভাপতি মৃণালকান্তি মুখোপাধ্য়ায়ের বাড়িতে ঝুলছে তালা। কর্মী-সমর্থকদের পরিবারগুলির অভিযোগ, বাড়ির একমাত্র রোজগেরে ছেলে হয় জেলে রয়েছে নয়তো পুলিশের ভয়ে ঘরছাড়া। এই পরিস্থিতিতে পাশে থাকা তো দূরের কথা, নেতারা কেউ ফোন পর্যন্ত ধরছেন না।

যদিও জেলা বিজেপির কার্যকরী সভাপতি শঙ্কর মাহাতো নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে বলেন, "পুলিশ আমাদের কর্মী সমর্থকদের গ্রেফতার করছে।  তৃণমূলের দাস হয়ে গিয়েছে পুলিশ। এটা একটা পরিকল্পিত চক্রান্ত। অনেককে ভয় দেখিয়ে তৃণমূলে যোগ দিতে বাধ্য় করা হচ্ছে।  তবে পৌরসভার নির্বাচনে এর কোনও প্রভাব পড়বে না। ভোটের ফলের সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।"