কলকাতা হাইকোর্টের শুক্রবারের নির্দেশে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন  সারদার ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা। এদিন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, সারদার আমানতকারীদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা তহবিলের বকেয়া টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের কীভাবে বন্টন করা হবে, ৪ সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিয়ে জানাতে হবে সরকারকে। যদিও কোর্টে এদিন সরকার বলে, সারদার আমানতকারীদের টাকা ফেরালে বাকি চিটফান্ডের আমানতকারীদের সঙ্গে বৈষম্য করা হবে। ফলে হাইকোর্টের এদিনের নির্দেশের জেরে বেশ খানিকটা বেকায়দায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে সরকারের। কারণ কলকাতা ও হাওড়ায় এপ্রিলে রয়েছে পুর-ভোট। ভোটের আগে ফের চিটফান্ড ইস্যু উঠতে পারে ভোট-বাজারে৷ 

বেআইনি আর্থিক লগ্নিকারী চিটফান্ড  সারদায় টাকা রেখে ফেরত পাননি বহু আমানতকারী। রাজ্য সরকার ওই সংস্থার আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে ২০১৩ সালে ৫০০ কোটি টাকার  তহবিল গড়ে৷ হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শ্যামল সেনের নেতৃত্বে এক সদস্যের কমিশন গড়ে টাকা ফেরানোর ব্যবস্থা করে সরকার। প্রায় ৫ লক্ষ আমানতকারীকে টাকা ফেরায় কমিশন। তবে ২০১৪ সালের অক্টোবরে কমিশন বন্ধ হয়ে যাবার পর রাজ্য সরকারকে প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়৷ 

ওই টাকা কীভাবে ব্যবহার হবে জানতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন সুবীর দে নামে এক ব্যক্তি। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি শেখর ববি শরাফের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে হলফনামা দিয়ে ৫০০ কোটির হিসেব চেয়েছিল। এদিন হলফনামা দিয়ে সরকার সেই তথ্য দেয়৷ ৫০০ কোটির বাকি অর্থ দিয়ে সরকার কী করেছে জানতে চায় কোর্ট। সরকারি আইনজীবী বলেন, বাকি টাকা সারদার আমানতকারীদের দিলে অন্য চিটফান্ডের আমানতকারীদের সঙ্গে বৈষম্য করা হবে।