আমফান দুর্নীতি মামলায় রাজ্য সরকারকে ৭ দিনের মধ্যে হলফনামা সহ রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিল সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি থোট্টাথিল ভাস্করণ নায়ার রাধাকৃষ্ণনের ডিভিশন বেঞ্চের কাছে সরকার সমস্ত তথ্য পেশ করতে আরও কিছু সময় চায়। কিন্তু কোর্ট প্রশ্ন তোলে, সরকার আর কত সময় নেবে৷ কোর্ট রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে, আমফান নিয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কতজনকে ত্রাণ দেবার জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছে। কতজন এর মধ্য়ে ত্রাণ পেয়েছে সমস্ত তথ্য পাবলিক ডোমেনে প্রকাশ করতে হবে।

গত মে মাসের মাঝামাঝি রাজ্যে আমফান ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ে। ঝড়ের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যায় উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা।  বহু মানুষের বসত বাড়ি, চাষের জমি নষ্ট হয়ে যায়। প্রশাসনের তরফে ত্রাণের ব্যবস্থা হলেও বহু মানুষ আজও কোনও ত্রাণ পায়নি বলে অভিযোগ। এই নিয়ে জনস্বার্থ মামলা করেন কাকদ্বীপের ক্ষতিগ্রস্ত এক কৃষক খাইরুল আনম শেখ।  

মামলাকারীর আইনজীবী নূর ইসলাম শেখের বক্তব্য, স্থানীয় প্রশাসন বিডিও, এসডিও'র কাছে ত্রাণের জন্য আবেদন জানানো হলেও আজও বহু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ত্রাণ পায়নি। এমনকী প্রশাসনের তরফে তাদের ভাঙা বাড়ির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এখনও পর্যন্ত কোনও তদন্তও হয়নি। অথচ বেশ কিছু মানুষের পাকা বাড়ি রয়েছে এমনকী ঝড়ে সেই বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও তারা ত্রাণের টাকা পেয়েছে। ত্রাণ নিয়ে কার্যত নয়ছয় ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন মামলাকারী। তাঁর বক্তব্য,  বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস অতিমারির জেরে এমনিতেই মানুষ ভীত, সন্ত্রস্ত রয়েছে। এর ওপর আমফানের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো আরও অসহায় হয়ে পড়েছে৷