বারাসত, হাবড়ার পর এবার জোকা। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের জোকা বাস ডিপোটেও শুরু হয়ে গেল কর্মবিরতি। ঠাকুরপুকুর জোকা বাস ডিপোতে কর্মরত অস্থায়ী চালক ও কনডাকটররা শুক্রবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করায় যথারীতি নাকাল নিত্য়যাত্রীরা। রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের বেশিরভাগ বাস ডিপোর মতো এখানেও বেশিরভাগ কর্মীই অস্থায়ী। স্থায়ী কর্মী নামমাত্র। তাঁরাই যা দু-চারটে বাস চালিয়েছেন সকাল থেকে।

কর্মবিরতি পালন করতে থাকা অস্থায়ী কর্মীদের দাবি হল, তাঁদের স্থায়ী করতে হবে। তাঁদের বক্তব্য়, দশবছর ধরে যাঁরা কাজ করছেন, অথচ কাউকে স্থায়ী করা হয়নি। অভিযোগ, কর্মরত অবস্থায় চালক বা কনডাকটর কেউ দুর্ঘটনায় পড়লেও কেউ দেখার নেই। কোনও যাত্রী কনডাকটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে, দু-পক্ষের কথা না-শুনেই একতরফাভাবে ব্য়বস্থা নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মাঝরাস্তায় বাসে চেকার উঠে যাত্রীদের সামনেই নাকি কনডাকটর ও চালককে অপমান করছেন। লুকিং গ্লাস বা গাড়ির কোনও অংশের কোনও ক্ষতি হলে তা পূরণ করতে হচ্ছে চালকের পকেট থেকেই। স্থায়ীকরণের দাবি তো উঠেইছে, পাশাপাশি উঠে এসেছে এই অভিযোগগুলিও।

এদিকে, যেহেতু বেশিরভাগ বাসই চালান অস্থায়ী কর্মীরা, তাই তাঁদের কর্মবিরতিতে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে পরিবেষা। এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ও হাবড়া ডিপোটেও শুরু হয়েছে বাসকর্মীদের কর্মবিরতি। সেখানেও রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের ডিপোটে কর্মবিরতিতে বসা কর্মীদের দাবি সেই একই, স্থায়ীকরণ। আর সেইসঙ্গে  কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জুলুমের অভিযোগ। এদিকে কেউ কেউ বলছেন, এতদিন স্টপেজে হাত দেখালেও দাঁড়াত না সরকারি বাস। এবার অস্থায়ী কর্মীদের টার্গেট বেঁধে দেওয়ায় তাঁরা  যাত্রী তুলছেন, আর বেপরোয়া  ড্রাইভিংও কমেছে।

এমতাবস্থায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের  একের-পর-এক ডিপোতে এভাবে কর্মবিরতি চলতে থাকলে অচিরেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থা।