রাজ্য়ে এক ধাপে ২০০ ছুঁতে চলল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। কেন্দ্রীয়  স্বাস্থ্য় মন্ত্রকের বুলেটিন বলছে, পশ্চিমবঙ্গে মঙ্গলবার পর্যন্ত কোভিড১৯-এ সংক্রমিতের সংখ্যা ১৯০। তবে ৩৬ জন ইতিমধ্য়েই করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরছেন তাঁরা। যদিও মৃতের সংখ্যা এখনও সাত রয়ে গিয়েছে। 

 সোমবারের সরকারের হিসেব বলছে , রাজ্য়ে এখন কোভিড১৯-এ সংক্রমিত রোগীর সংখ্য়া ১১০। তবে মৃতের সংখ্য়া সাতের বেশি বাড়েনি। সোমবার স্বাস্থ্য় দফতরের করোনা বুলেটিনে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্য়ে এখনও ২৭৯৩ জনের করোনা পরীক্ষা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশনে রয়েছেন ৪২২ জন। ৩৯,১৭৮ জনকে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখে হয়েছে। ইতিমধ্য়েই নিজেদের হোম আইসোলেশনের সময় অতিক্রম করেছেন ১৭২৯৪ জন। এছাড়াও হাসপাতালের আইসোলেশনে রয়েছেন ২২৭০জন। ইতিমধ্য়েই অবশ্য় হাসপাতলের আইসোলেশনের সময়সীমা শেষ করে করেছেন ১৮৪৮ জন।

এদিকে রাজ্য় সরকারের এই করোনার পরিসংখ্য়ান নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েনি বিজেপি। দলের আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য় এই রিপোর্টকে পশ্চিমবঙ্গের লজ্জা বলে মন্তব্য় করেছেন। টুইটারে তিনি বলেন, সব জায়গায় এটা প্রমাণিত সত্য় ,যে পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অথচ রাজ্য় সরকারের রিপোর্টে তার প্রতিফলন নেই। রাজ্য়ের মানুষকে প্রকৃত তথ্য়টাই জানানো হচ্ছে না। এর জন্য় মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় পুরোপুরি দোষী।

তবে এই প্রথমবার নয়। অতীতেও মুখ্য়মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্য়ে কথা বলার অভিযোগ এনেছি বিজেপি। দলের আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় তথ্য় পরিসংখ্য়ান দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন, রাজ্য় সরকারকে পর্যাপ্ত পরিমাণ করোনার কিট দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ ব্যবহারই করা হচ্ছে না। এবার সেই একই সুর শোনা গেল নাইসেড-এর প্রধান সান্তা দত্তের কথায়। একটি জাতীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংস্থার বিভাগীয় প্রধান বলেন, আমাদের কাছে ২৭,৫০০ করোনা পরীক্ষার সরঞ্জাম রয়েছে। কোনওদিনই এই কিটের ঘাটতি হয়নি। যেহেতু স্বাস্থ্য়ের বিষয়টা রাজ্য় সরকারের  হাতে, তাই তারাই বলতে পারবেন কেন কম পরীক্ষা করানো হচ্ছে।

এই বলেই অবশ্য় থেমে থাকেনি নাইসেড-এর প্রধান। তাঁর দাবি, প্রথম প্রথম করোনা পরীক্ষায় প্রতিদন ৮০-৯০টি নমুনা পাঠানো হত নাইসেড-এর কাছে। কিন্তু বিগত দিনে তা  খুব কমে এসেছে। তিনি জানান, দিন তিনেক আগেও তাঁর কাছে ১৮টি সোয়াব টেস্টের জন্য় এসেছে। এমনকী কোনওদিন মাত্র ৯টি নমুনা পরীক্ষা করেছে নাইসেড। যেখানে সারা দেশ জানে ভাইরাস রিসার্চ ডাইগনস্টিক ল্যাব হওয়ার দরুণ পূর্ব ভারতে সবথেকে বড় পরিকাঠামো রয়েছে নাইসেড-এর। সেক্ষেত্রে অন্য়ান্য় মেডিক্য়াল কলেজের থেকে নাইসেড-এ লোকবল অনেক বেশি।