ভারত বনধ নিয়ে সুজাপুরে হিংসার ঘটনায় বৃহস্পতিবারই তদন্তের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল সিআইডির হাতে। এ দিনই সুজাপুরে যাচ্ছে সিআইডির প্রতিনিধি দল। সুজাপুরে তাণ্ডব ও পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানোর অপরাধে শুরু হয়েছে তদন্ত। 

বুধবার ১২টি বাম শ্রমিক সংগঠনের ধর্মঘটে মালদার সুজাপুরে  অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষিট হয়। সেই তাণ্ডবের পিছনে কারা তারই তদন্ত শুরু করল সিআইডি। পুলিশ সূত্রে খবর, রাতেই তল্লাশি চালিয়ে এই ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রাজ্য পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার সবদিক খতিয়ে দেখতে সিসিটিভি ফুটেজগুলি  দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্য়েই গাড়িতে পুলিসের ভাঙচুরের একটি ভিডিয়ো সামনে এসেছে। কারা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে  তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

সারা রাজ্য়ে সেভাবে হিংসার ঘটনা না ঘটলেও সাধারণ ধর্মঘটের দিনে তুলকালাম হয় সুজাপুরে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়ি, হোটেল। জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করে রেখে ভাঙচুর চালানো হয় বাস ও প্রাইভেট গাড়িতে। এ দিনের ঘটনায়, পুলিশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলের নেতাদের দাবি, সুজাপুরে এই হিংসার সঙ্গে কোনও দলের সমর্থকরাই যুক্ত ছিলেন না। ধর্মঘটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু দুষ্কৃতী এই তাণ্ডব চালিয়েছে। তবে এ দিন ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে দেখা যায়, ঈদগাহ মাঠে থাকা একটি ট্রাক ও বেশ কিছু ছোট গাড়ি ভাঙচুর করছেন পুলিশকর্মীরা। ফলে পাল্টা অভিযোগ উঠেছে যে, এই অশান্তির পিছনে পুলিশের হাতও রয়েছে। যদিও এনিয়ে কোনও মন্তব্য় পুলিশের তরফে পাওয়া যায়নি। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনায় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দিকেই আঙুল তুলেছেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর প্ররোচনাতেই এ দিন গাড়ি ভাঙচুর করে বনধ সমর্থকদের দোষারোপ করেছে পুলিশ। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গাসাগর থেকেই বলেন, বনধ সমর্থকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এর কিছুক্ষণ পরেই মালদহের সুজাপুর থেকে অশান্তির খবর আসে। সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিমের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী প্ররোচনা দেওয়ার পরই ভাল পোস্টিং- এর লোভে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে পুলিশ।