ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে রাজ্যে।  নষ্ট হয়ে গিয়েছে ফসল, প্রাণ হারিয়েছে ৯ জন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, 'দুর্গতদের পাশে না দাঁড়িয়ে অনেকেই ভাঙচুর করছেন, রাজনৈতিক বিতর্ক করে বড় বড় কথা বলছেন। এসব বন্ধ করুন। অসহায় মানুষের পাশে দাড়ান।' মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, 'ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিলি করছে রাজ্য সরকার। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে। সকলেই ত্রাণ পাবেন।'

বুধবার আকাশপথে উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাটে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিদর্শন শেষে বসিরহাটেই প্রশাসনিক বৈঠকও করেন তিনি। বৈঠকে দুর্গতদের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা ছিল, 'ত্রাণ নিয়ে যেন কোনও রাজনীতি না হয়। সবাই যাতে ত্রাণ পান, তা দেখতে হবে।' কিন্তু ঘটনা হল, মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠক করে চলে যাওয়ার পর রাতেই ত্রাণ বিলি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর ২৪ পরগণার হিঙ্গল।  স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা বিজেপি কর্মীদের হামলা চালান বলে অভিযোগ। আহত হন ১০ জন।  

বিজেপির দাবি, এলাকায় ত্রাণ বিলির জন্য একটি কমিটি তৈরি করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন দলের কর্মীরা। কিন্তু সেই প্রস্তাব মানতে রাজি হননি তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত প্রধান।  আর কথা না বাড়িয়ে বিজেপি কর্মীরা যখন বাড়ি ফিরে আসছিলেন, তখন তৃণমূল কর্মীদের তাঁদের বাঁশ, লাঠি নিয়ে চড়াও হন অভিযোগ।  এদিকে ত্রাণ সঠিকভাবে বিলি করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।

সোমবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে সকলকেই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানালেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,  'কেন্দ্রীয় সরকার এবার কর বাবদ অনেক কম টাকা দিয়েছে। বুলবুলের প্রভাবে রাজ্যে ৬৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।  তবে রাজস্ব আদায় না কমায় কোনওমতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছে।'  তবে স্রেফ পশ্চিমবঙ্গই নয়, কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণে অন্য় রাজ্যও সমস্যায় পড়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।