আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করুন। রাজ্যবাসীকে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হুঁশিয়ারি, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বরদাস্ত করা হবে না। ট্রেনে পাথর ছুঁড়ে কিংবা বাসে আগুনে লাগিয়ে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে তিনি নিজেও সোচ্চার হয়েছেন। বাংলায় এই আইন লাগু না করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী সোমবার থেকে আন্দোলনে নামছে তৃণমূল কংগ্রেসও। কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না! শুক্রবারের পর শনিবার অবরোধ-বিক্ষোভে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিপর্যস্ত জনজীবন। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে হাওড়া কোনা এক্সপ্রেসওয়ে। এখনও পর্যন্ত যা খবর, কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে ১৫টি বাস জ্বালিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। অবরোধ তুলতে পাল্টা লাঠিচার্জ করেছে পুলিশও। শহরের অন্য়তম ব্যস্ত এই সড়কে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। স্রেফ হাওড়াতেই নয়, উত্তর ২৪ পরগণা, পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ-সহ রাজ্যের সর্বত্রই চলছে অবরোধ-বিক্ষোভ। হাওড়ার সাঁকরাইল স্টেশনে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। রেল অবরোধের জেরে হাওড়া থেকে দক্ষিণ ভারত ও মুম্বইগামী একাধিক ট্রেন বাতিল। 

এর আগে শুক্রবার সকালে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে হাওড়ার উলুবেড়িয়া স্টেশনেও রেল অবরোধ করেছিলেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষে। বেশ কিছুক্ষণ অবরোধ চলার পর ট্রেন লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীদের পাথর ছুড়তে থাকেন বলে অভিযোগ। পাথরের আঘাতে ভেঙে যায় ট্রেনে কেবিন রুম, আহত হন বেশ কয়েকজন যাত্রীরা। ট্রেনে আরও যাঁরা ছিলেন, আতঙ্কে কামরা দরজা জানলা বন্ধ করে দেন। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা স্টেশনে তাণ্ডব চলে। এই প্রেক্ষাপটে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে রাজ্যবাসীকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য, আগামী সোমবার নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে কলকাতায় মিছিল করবে তৃণমূল কংগ্রেস। আম্বেদকরের মূর্তি থেকে গান্ধী মূর্তি হয়ে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত হবে মিছিল। মিছিলে হাঁটবেন তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। মঙ্গলবার মিছিল হবে যাদবপুর এইটবি বাসস্ট্যান্ড থেকে গান্ধীমূর্তি পর্যন্ত। রবিবার প্রতিটি জেলায় মিছিল শামিল হবেন রাজ্যের শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা।