কুমারগঞ্জ গণধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে শহরে মিছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীদের হাতে ধরা ফ্লেক্সে যে জ্বলজ্বল করছে নির্যাতিতার নাম! বিতর্কে জড়াল বিজেপি।  এই ঘটনার তীব্র আপত্তি তুলেছে তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলি।

জীবিত থাকলে তো কথাই নেই। ধর্ষণের পর যদি খুন করা হয় কিংবা মারা যান, সেক্ষেত্রেও নির্যাতিতার নাম প্রকাশ করা যায় না। তেমন নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। কিন্তু সেই নির্দেশ বা গাউডলাইন মানছে কে! এ রাজ্যে কিংবা দেশে যখনই কোনও ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে, তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় ওঠে। স্রেফ নাম নয়, নির্দ্বিধায় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট করে দেন নেটিজেনরা। ব্যতিক্রম ঘটেনি কুমার গণধর্ষণকাণ্ডের ক্ষেত্রেও। কেউ সরাসরি ছবি-সহ নাম পোষ্ট করেছেন, তো কেউ আবার ছবিতে চোখ ঢেকে দিয়েছেন। আর এবার প্রতিবাদ মিছিলের ফ্লেক্সেও নির্যাতিতার পরিচয় গোপন থাকল না।

আরও পড়ুন: কুমারগঞ্জ গণধর্ষণকাণ্ডে গোপন জবানবন্দি, আদালতে হাজির নির্যাতিতার পরিবার

ঘটনাটি ঠিক কী? কুমারগঞ্জ গণধর্ষণকাণ্ডে প্রতিবাদে শুক্রবার কলকাতায় নন্দন থেকে হাজরা পর্যন্ত মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি-এর মহিলা ও যুব মোর্চা।  কিন্তু মিছিলের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। পুলিশের বিরুদ্ধে বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় গেরুয়াশিবির। শেষপর্যন্ত আদালতের নির্দেশে নন্দন চত্বরে বিকল্প পথে মিছিল হয়। মিছিলে হাঁটেন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল-সহ দলের প্রথমসারির নেতা-নেত্রীরা। আর মিছিলকে কেন্দ্র করে জমে ওঠেছে বিতর্ক। কারণ মূল ব্য়ানারে না থাকলেও, মিছিলে বেশ কয়েকটি ফ্লেক্সে প্রকাশ্যেই কুমারগঞ্জ গণধর্ষণকাণ্ডের নির্যাতিতার নাম লেখা ছিল!

এই ঘটনায় তীব্র আপত্তি তুলেছে বিরোধীরা। বিজেপিকে 'অসভ্যের দল' বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, কোনও সভ্য দল এমন কাজ করে না।  সিপিএমের এক নেতার কটাক্ষ, একমাত্র বিজেপি-এর মতো অশিক্ষিত দলই এই কাণ্ড ঘটাতে পারে।  যদিও মিছিলে যে নির্যাতিতার নাম লেখা ফ্লেক্সও ছিল, তা মানতে চাননি বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়।