মঙ্গলবার সকালে  হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আইসিইউতে রয়েছেন তিনি।  চিকিৎসকদের পরিভাষায় ক্লিনিক্যালই স্টেবল অর্থাৎ আপাতত স্থিতিশীল রয়েছেন তিনি। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বর্তমানে বাইপ্যাপের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। 

এদিন সকালে থেকে আচমকা শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ৮০তে নেমে গিয়েছিল। তারপরই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির করা পরামর্শ দেওয়া হয়ে। তড়িঘড়ি নিয়ে আসা হয় বেসরকারি হাসপাতালে।  বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের চিকিৎসার জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ডে রয়েছেন ডক্টর সৌপ্তিক পণ্ডা, সপ্তর্ষি বসু ও সরোজ মণ্ডল। চিকিৎসকদের বোর্ডে থাকতে পারেন সিপিএম নেতা তথা চিকিৎসক ফুয়াদ হালিম। হাসপাতাল সূত্রের খবর তাঁর COPD সমস্যা গুরুতর। সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। ফুসফুসে প্রবল সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মেডিক্যাল বোর্ডের এক সদস্য জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়নি। তবে দ্রুততার সঙ্গে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। 


হাসপাতাল সূত্রের খবর কোডিভ চিকিৎসা যেমন চলছিল তেমনই চলবে। তাঁকে অ্যান্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েড দেওয়া হচ্ছে। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন বলেও হাসপাতাল সূত্রের খবর। চিকিৎসকদের অনুমান করোনাভাইরাসে সংক্রমণের জন্যই তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়েছিল। COPD সমস্যা থাকায় তাঁর শরীরে এমনিতেই অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকার কথা। তাই পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হবে বলেও জানান হয়েছে। একই সঙ্গে রক্তে শর্করা ও অন্যান্য বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার জন্য বেশ কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। 

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও তাঁর স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। বাড়িতেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের চিকিৎসা চলছিল। স্ত্রীকে ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। সোমবা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফেরেন স্ত্রী। বাড়িতেই ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।কিন্তু সোমবার রাত থেকেই তাঁর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। যদিও আগেই চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু হাসাপাতালে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু এদিন শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।