আমফানের আগেই এসে পৌঁছেছে বিপদ সংকেত। খাস কলকাতায় কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছে আকাশ। বৃষ্টি শুরু হয়েছে একাধিক অঞ্চলে। কলকাতায় যখন এই হাল, তখন জেলায় শুরু হয়ে গিয়েছে দমকা হাওয়া। নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে শুরু করেছে আমফান।

নবান্নকে না জানিয়েই আমফান নিয়ে মোদীর বৈঠক, ক্ষুব্ধ মমতাকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস শাহের.

হাওয়া অফিস বলছে,আমফন এখন অবস্থান করছে দিঘা থেকে ৬৩০ কিমি দক্ষিণ পশ্চিমে । আপাতত উত্তর পূর্ব দিকে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়। আগামীকাল বিকেলে দিঘা ও বাংলাদেশের  হাতিয়া আই ল্যান্ড এর মধ্যে দিয়ে প্রবেশ করবে এই ঝড়। এই ঝড় যখন ঢুকবে তখন ১৮৫ থেকে ২০০ কিমি গতি থাকবে ঝড়ের।

হাওয়া অফিস বলছে, আমফান ঢুকলে দুই ২৪ পরগনায় সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস ৪ থেকে ৫ মিটার উচু হবে। নিচু এলাকাতে জল ঢুকতে পারে । পূর্ব মেদিনীপুরে থেকে ৪ মিটার জলচ্ছ্বাস হবে । যখন এই ঝড় প্রবেশ করবে  তখন হাওড়া , হুগলি ,কলকাতা যে ১০০ থেকে ১২০ কিমি বেগে ঝড় হবে। 

দু'দিনে ১৬ জনের মৃত্যু, মর্গে জায়গা না থাকায় ৬টি ডিপ ফ্রিজ বসাচ্ছে মেডিক্যাল

দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ,পূর্ব মেদিনীপুরে আগামীকাল ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। এই ঝড়ে  সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর।  ক্ষতিক তালিকায় রয়েছে  কলকাতা, হাওড়া, হুগলি , পশ্চিম মেদিনীপুরে । প্রচুর গাছ ও বাড়ি , লাইষ্টপোস্টও ভেঙে পড়তে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, কলকাতায় ২০ তারিখ সকালে ৭৫ থেকে ৮৫ কিমি বেগে ঝড় হবে। যখন আমফন ঢুকবে বিকেলে তখন কলকাতাতে ঝড় হবে ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার বেগে।

রাজ্যে যখন বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমণের ঘটনা তখনি সুপার সাইক্লোন আমফান চোখ রাঙাতে শুরু করেছে। বাংলাকেই এবার টার্গেট করে আছড়ে পড়তে চলেছে সুপার সাইক্লোন। এই মারাত্মক বিপর্যের সঙ্গে লড়াই করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাশেই রয়েছে কেন্দ্র, তা জানাতে মঙ্গলবার সকালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিপর্যয় মোকাবিলায় মমতাকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন অমিত। 

প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের বন্দির মৃত্যু,করোনার উপসর্গ থাকায় আতঙ্কে কর্তৃপক্ষ.

১৯৯৯ সালে শেষবার সুপার সাইক্লোন দেখেছিল ভারতের পূর্ব উপকূল ৷ সেবার সুপার সাইক্লোন ওড়িশা এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বিশাল অংশকে বিধ্বস্ত করেছিল। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছিল ওড়িশায়। এবার সেই প্রভাব পড়তে চলেছে বাংলাতে। এই অবস্থায় এই শতাব্দীর প্রথম সুপার সাইক্লোনকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করেন। রাজ্যের আমফান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি আমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়ে দেন রাজ্য চাইলে ত্রাণ তৈরি রয়েছে। ইতিমধ্যে এনডিআরএফ দলও বাংলার উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে পৌঁছে গেছে।