আমাদের চারপাশে দৈনন্দিন জীবনে চলতে গিয়ে আমরা দেখা পাই এমন অনেক মানুষের যারা  নিজেদের একাই একশো ভেবে থাকেন। অফিসের সহকর্মী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে আমরা প্রায়সই দেখা পাই এমন ব্যক্তিত্বের যারা কিনা নিজেদের অন্যদের থেকে এগিয়ে রেখে ভাবতে ভালোবাসেন। তাদের এই ভাবনাই হয়ে উঠে সহকর্মীদের কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব-বিরোধের মূল কারণ। ঠিক এই জায়গা থেকেই এবার নিজেদের পুজোর থিম নির্বাচন করেছে ঢাকুরিয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব পুজো উদ্যোক্তারা।

আরও পড়ুন- তেল-কালিমাখা হাতে স্বপ্নের ক্যানভাসে, রং ধরান মোটর মেকানিক অমর পাল

 কিছু কিছু মানুষের নিজেকে একাই একশো ভাবার প্রবণতা বা স্বভাব থেকেই এবার তাদের পুজোর থিম "একাই একশো"। তাদের মণ্ডপে প্রবেশ করলে প্রথমেই দেখা যাবে একটি বিরাট রাজসিংহাসন, যেটির মাধ্যমে পুজো কমিটি ব্যাঙ্গ করতে চেয়েছেন সেই সমস্ত মানুষদের যারা নিজেকে একাই একশো ভেবে থাকেন অর্থাৎ ওই রাজসিংহাসনের উপযুক্ত ভাবেন নিজেদের। মণ্ডপের গায়ে নানারকম ছবির মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হবে একাই একশো ভাবা মানুষদের সম্পর্কিত নানানরকম ঘটনা। এই অভিনব থিমটি ভেবেছিলেন রাখি মুখার্জি, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি, যার ফলে তার স্বামী সন্দীপ মুখার্জির নির্দেশ অনুসারে গীতশ্রী ডেকোরেটার্স-এর সহযোগিতায় গড়ে উঠছে ঢাকুরিয়া সর্বজনীনের মণ্ডপটি। শিল্পী পরিমল পালের তত্ত্বাবধানে থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখেই এগিয়ে চলেছে প্রতিমা তৈরির কাজ। পুজো কমিটির সেক্রেটারি সুকৃতি মিত্র জানিয়েছেন এবছর তাদের পুজো পদার্পন করতে চলেছে ৯০ তম বর্ষে। 

আরও পড়ুন- প্রকৃতি ও নারীর মেলবন্ধন-এ সেজে উঠবে ঠাকুরপুকুর ক্লাব

তাই এবারের পুজোয় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছেন না তারা। এবছর তাদের পুজোর বাজেট ২৫ লক্ষ টাকা। তিনি আরও জানিয়েছেন এবারে তাদের পুজোর উদ্বোধন প্রথমায়, পুজোর উদ্বোধন করবেন কলকাতা পৌরসভার মেয়র ববি হাকিম। তাই মহালয়ার যত আগে সম্ভব মণ্ডপ তৈরির কাজ শেষ করতে চাইছেন তারা। অভিনব এই ভাবনায় তৈরি মণ্ডপ এবং প্রতিমাকে নিজের চোখে দেখতে হলে দেরি করবেন না, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে আসবেন ঢাকুরিয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব পুজো কমিটির এই পুজোয়।