সেঁজুতি দাস 

হাতে আর মাত্র কটা দিন। এখন দরজায় কড়া নাড়ছে বাঙালিদের সব থেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। বছর ঘুরে আবার দুর্গা মা আসেছে তার বাপের বাড়িতে। সেই নিয়েই শুরু হয়ে গিয়েছে তোড়জোড়। পাড়ায় পাড়ায় পুজোর প্যান্ডেল আর থিমের কাজ এখন প্রায় শেষের দিকে। এবার থিমে এক বিশেষ চমক নিয়ে আসছে ঠাকুরপুকুর ক্লাব। সেখানকার থিম এবার 'উমার কথকতা'। এবছর তাদের পুজো ৭০ বছরে পা দিল। 

সৃষ্টির মূলে রয়েছে প্রকৃতি আর নারী। এদের অবহেলা মানেই ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাওয়া। তাই ধ্বংস নয় সৃষ্টি চাই, এই বার্তা দিতেই ঠাকুরপুকুর ক্লাবের এবারের থিম 'উমার কথকতা'। প্রকৃতি আর নারীর মেলবন্ধন দেখা যাবে মন্ডপে। সত্তর বছরের পুজোয় একই সঙ্গে প্রকৃতি আর উমার আবাহন করা হচ্ছে পল্লীমঙ্গলে। দেবী এখানে সাবেকি। বড় তুলসীমঞ্চের মধ‍্যে অধিষ্ঠাত্রী দেবী। হৈমবতীর বুক চিরে সতীর আগমন। এবারের শিল্পী অরিন্দম নাথ। তাঁর চিন্তাভাবনায় কালিঘাটের পটুয়াপড়ায় মূর্তি তৈরি হয়েছে। কোষাধ‍্যক্ষ সঞ্জয় দাস জানান, প‍্যান্ডেলে নারী নির্যাতনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হচ্ছে। নিষ্ঠুরতার প্রতীক হিসেবে মন্ডপের সামনে থাকছে বিশাল আকারের একটা হাড়িকাঠ। মেদিনীপুর থেকে আনা হয়েছে ছয়টি নারী মূর্তি। পুজো কমিটির সভাপতি অসীম তালুকদার জানান, এবার তাঁদের বাজেট ১৫ লক্ষ টাকা। মূর্তি থেকে মন্ডপ সবটাই তৈরি হচ্ছে প্রাকৃতিক উপাদানে। পুজোর উদ্বোধন হবে তৃতীয়াতে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানিয়ে ইতিমধ‍্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় এবং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ‍্যায়কে। 

উমার এই রূপ দেখতে হলে আসতে হবে ঠাকুরপুকুর ক্লাব-এর পুজোতে।