যাদবপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে হেনস্থার জের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ফোন করে অভিযোগ জানালেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। একই সঙ্গে বাবুলকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে যাঁদের বিরুদ্ধে, যাদবপুরের সেই পড়ুয়াদের বেহায়া এবং দেশদ্রোহী বলে মন্তব্য় করলেন খড়্গপুরের সাংসদ। 

জানা গিয়েছে, অমিত শাহের কাছে দিলীপ ঘোষ যাদবপুরের ঘটনার সময়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েই অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে যখন হেনস্থা করা হচ্ছিল, তখন তা দাঁড়িয়ে দেখছিল পুলিশ। বাবুলকে বাঁচাতে পুলিশ কোনও উদ্যোগই নেয়নি বলে অভিযোগ দিলীপের। মৌখিক অভিযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরে চিঠি লিখেও অভিযোগ জানাচ্ছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, 'আমি এই ছাত্রছাত্রীদের আগেই বেহায়া বলেছিলাম। এখন দেখছি এঁরা শুধু বেহায়াই নন, দেশদ্রোহী এবং সমাজবিরোধীও।'

আরও পড়ুন- হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত, টুইটারে 'প্রমাণ'-সহ দাবি বাবুলের

আরও পড়ুন- যাদবপুরের ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশিষ্টদের একাংশ, বাবুল সুপ্রিয়র আচরণ নিয়ে প্রশ্ন খোলা চিঠিতে

শুধু তাই নয়, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়েরও প্রশংসা করেছেন দিলীপ। তিনি বলেন, 'রাজ্যপাল তো তৃণমূলের প্রতিনিধি হয়ে আসেননি। তিনি এসেছেন রাষ্ট্রপতি এবং সংবিধানের প্রতিনিধিত্ব করতে।'

দিলীপের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন যাদবপুরের পড়ুয়ারাও। তাঁদের পাল্টা কটাক্ষ, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যাঁরা সরকারের কোনও কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তাঁদেরকেই বিজেপি নেতারা বেহায়া বলছেন। 

অন্যদিকে যাদবপুরের ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে কলকাতায় রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু। ধর্মতলায় বিজেপি-র প্রতিবাদ সভা থেকে সায়ন্তন বলেন, 'এবার থেকে আমাদের নেতা, মন্ত্রীর উপরে ফের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা হলে রাস্তায় ধোলাই অভিযান হবে। কাউকে ক্ষমা করা হবে না। আমরা এটাকে ছাড়ব না। আমাদের নেতানেত্রীরা ভবিষ্যতেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। আমরা আইন হাতে তুলে নেব না, কিন্তু ফের যদি আবার এই ঘটনা ঘটে, কেউ বেঁচে বাড়ি ফিরতে পারবেন না।'