ফের সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্ফোরক বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতেই আরও একবার বিতর্ক তৈরি করলেন তিনি। নুসরত জাহান প্রসঙ্গে শুক্রবার তিনি বলেন একজন পার্লামেন্টের সদস্য যিনি বলছেন বিয়ে হয়নি, অথচ সিঁদুরের টিপ পরে বোকা বানিয়ে পুজো উদ্বোধন করে রথ টেনে ভোট নিয়ে জিতে গেলেন। বাংলার মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। যার বিয়ে হলো না, অথচ সেই বিয়ের নিমন্ত্রণ খেয়ে আসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

শুক্রবার সকালে নিউটাউনের ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে আসেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপ এদিন বলেন গোটা রাজ্য জুড়েই ধোঁকা জালিয়াতি চলছে। কত নিচে নামবে আমাদের বাংলার রাজনীতি। একজন সাংসদ তিনি। তাঁর এই ধরণের কাজ বাংলার রাজনীতির মানকেই খাটো করছে। 

আরও পড়ুন - চাঞ্চল্যকর খবর, ১৩ই জুন 'মমতা ব্যানার্জি'-র বিয়ে, ছাপা হল বিয়ের কার্ড

এদিন দিলীপ ঘোষ সরব হন নিউটাউনের শুট আউটের ঘটনার তদন্ত প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, এখানকার সরকার যে কোনো ঘটনায় CID লাগিয়ে দিয়ে ঘটনা চেপে দেয়। এই ধরনের গ্যাংস্টার, যাদের আন্তর্জাতিক স্তরে যোগাযোগ আছে, এটা কোন ছোটখাটো ব্যাপার নয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। কেন পশ্চিমবাংলায় বারবার এই ধরনের আতঙ্কবাদী, সমাজবিরোধীরা  এসে ঘাঁটি গাড়ে কেন? কারণ এটা নিরাপদ জায়গা, কেউ গায়ে হাত দেবে না। পুলিশ জানলেও কিছু বলবেনা। এরা এখানকার সরকারের সম্পদ। 

রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন এই নিয়ে তিনবার উগ্রপন্থী ধরা বা মারা পড়লো। মিজোরামের আতঙ্কবাদী এখানে লুকিয়ে থাকে, বাংলাদেশের আতঙ্কবাদি এখানে লুকিয়ে থাকে। শুধু আমরা বলছি না, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একসময় বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ দেশদ্রোহী ও সমাজবিরোধীদের গড়। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। 

ঘর ছাড়া বিজেপি কর্মীদের প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রায় ২৫ হাজার লোক বাইরে রয়েছে। এমন অনেক কর্মী আছে যারা লুকিয়ে রয়েছেন। আমরাও জানতে পারছি না। তাদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে, বাড়িঘর লুট করা হয়েছে, অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। কোনও জায়গায় আবার তৃণমূলের লোকেরা পেটাচ্ছে, আবার তাদের নেতারা গিয়ে ছাড়াচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের যে সহযোগিতা দরকার ছিল তা এখনো আমরা পাইনি। পুলিশকে অভিযোগ করলে আবার তৃণমূলের লোক দিয়ে পেটাচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা রোজকার ব্যাপার। 

দল ছাড়ার গুজব প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, বিজেপিতে গুজব চিরদিন চলে। যেহেতু কর্মীরা একটু মনমরা হয়ে গেছে, তাই গুজব করে মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে। যখন ভোটের আগে ওই পার্টিটা ঝরঝরে হয়ে গিয়েছিল, এমএলএ এমপি মেয়র পালিয়ে এসেছিলেন, তখন কোনও গুজব ছিল না। বিজেপির কর্মীদের ওপর পুলিশ দিয়ে গুন্ডা দিয়ে অত্যাচার করা হচ্ছে, ফোন করে ভয় দেখানো হচ্ছে। বিজেপির উত্থানে যাদের কোন যোগদান নেই, সেই সব লোকেরা মন খারাপ করে বসে আছে। যদি কেউ দলের সঙ্গে সুর মেলাতে না পারে তাহলে সেটা তার সমস্যা দলের নয়।