বিজেপি অফিসে সংবর্ধনা দেওয়ার আগেই ছন্দপতন। শোভন-বৈশাখী নিয়ে দিলীপের মন্তব্য়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল। বৈশাখীর 'মান ভাঙাতে" শেষে শোভন-বৈশাখীকে ভাত-ডালের সঙ্গে তুলনা বিজেপির রাজ্য় সভাপতি দিলীপ ঘোষের।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর মঙ্গলবার ছিল মুরলীধর স্ট্রিটে তাঁদের সংবর্ধনা দেওয়ার পালা। সেই আনুযায়ী শোভন-বৈশাখীকে স্বাগত জানাতে তৎপর হয়েছিল রাজ্য় বিজেপি ব্রিগেড। কিন্তু সকাল থেকেই রটে যায়, বিজেপির আমন্ত্রণপত্রে শোভনের সঙ্গে বৈশাখীর নাম না থাকায় বেজায় চটেছেন বৈশাখী বন্দ্য়োপাধ্যায়। এমনকী রাজ্য় বিজেপির এই আচরণে তিনি এতটাই অপমানিত যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেই না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ঘনিষ্ঠ মহলে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতেও ছাড়েননি বৈশাখী। তিনি জানান,কোনওদিন পদের লোভে কোথাও যাননি তিনি। তা বলে তাঁকে এরকম পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে ভাবেননি তিনি।
এরপরই খবর রটে যায় বৈশাখীকে সরকারিভাবে আমন্ত্রণ না জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্য়ায়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পরে অবশ্য় দেখা যায়, যথা সময়ে বিজেপির সদর দফতরে পৌঁছে যান শোভন-বৈশাখী

বিজেপির রাজ্য় সভাপতি দিলীপ ঘোষকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,শোভন-বৈশাখী দু'জনকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শোভন চট্টোপাধ্য়ায় দীর্ঘদিন কলকাতার মেয়র ছিলেন। এখনও বিধায়ক আছেন। সেকারণে দলের নীতি মেনেই ওনার নাম আমন্ত্রণপত্রে দেওয়া হয়েছে। তবে আমন্ত্রণপত্রে দু-জনের নাম থাকলে ভালো হত। তবে আমরা জানি যেমন ভাত-ডাল তেমন শোভন-বৈশাখীদি। এরমধ্য়ে আলাদা করার কী আছে। 

কদিন আগেই দিল্লিতে একই সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেন এই রাজনৈতিক যুগল। রাজ্য় রাজনৈতিক মহল বলছে,শোভনের বিজেপিতে যোগ তৃণমূলের কাছে একটা বড় ধাক্কা।  এক সময় মমতার ছায়াসঙ্গী থাকায় এমনিতেই দলের মুকুলের পর শোভনের পরিচিতি ছিল অনেকের চেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন মেয়র পদে থাকার কারণে রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতাও যেকোনও কারও থেকে বেশি। রাজ্য় বিজেপির উত্থানে শোভনের এই রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছে দল।