শনিবারের পর রবিবারেও দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার জারি রইল গুলির লড়াই। রবিবার মহিলাদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে পুরুষ বন্দিরা পাশাপাশি ভিতরে গুলিরআওয়াজ শোনা গিয়েছে। যদিও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। 

সূত্রের খবর, সংঘর্ষের ঘটনায় একজন মহিলা কারারক্ষী আহত হয়েছেন। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রায় সাড়ে চার হাজার বন্দি রয়েছে দমদম জেলে। এই দুদিনের এই গন্ডগোলের পর পুলিশ এখনও বুঝতে পারছে না পুরো বিষয়টি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আসবে। একদিকে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক, অন্যদিকে সংশোধনাগারের মধ্যে এই গুলির লড়াইকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার চত্বর।

শনিবার দমদম সেন্ট্রাল জেলে কয়েদি-পুলিশ সংঘর্ষে ৩ জন আসামির মৃত্যু হয়েছে ।  সূত্রের খবর, এরা  সকলেই বিচারাধীন বন্দি ছিলেন। এদের নাম আফতাব আনসারি, কমলেশ সিং, শেখ ফিরোজ ইসলাম । এরা তিনজনেই এনডিপিএস কেসে বিচারাধীন ছিলেন । টিটাগর থানার এলাকার বাসিন্দা। এছাড়াও অভিজিৎ নামে আরেক আসামি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার পায়ে গুলি লেগেছে।

করোনার জেরে বাড়ির লোকের সঙ্গে দেখা করা এবং কথা বলা বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে সকাল থেকেই দফায় দফায় উত্তাল হয়ে ওঠে দমদম সেন্ট্রাল জেল । ইতিমধ্যেই জেলের কয়েদি বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং জেল কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

 সূত্রে জানা গেছে, জেলের ভেতরে মারমুখী বিচারাধীন এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা জেলের ভেতর দরজা জানালা ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাঙচুর চালায় যথেচ্ছভাবে। প্রথমে মারমুখী আসামিদের বাগে আনতে পারেনি জেল পুলিশ। পরে বাইরে থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। শূন্যে গুলি চালায় বলে অভিযোগ । আসামীদের পরিবারের অভিযোগ পুলিশের এলোপাথাড়ি ছোড়া  গুলিতে বেশ কয়েকজন বন্দীর আহত হওয়ার খবর আছে। তাদেরকে জেলের ভিতর যে হাসপাতাল রয়েছে সেই হাসপাতালেই চিকিৎসা করা হচ্ছে।

করোনার কোপে এই মুহূর্তে রাজ্য় সহ দেশ তোলপাড়। বিশেষ করে রাজ্য়ে করোনার আরও ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর আরও বেশি করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে যেকোনও জমায়েতের বিরুদ্ধেই। কারণ তা থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ছড়াতে পারে। এদিকে এই পরিস্থিতিতে দমদম জেলের কয়েদিরা বাড়ির লোকের সঙ্গে দেখা করতে না পারায়, তারা রীতিমত  বিক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং জেল কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে।সংঘর্ষের মাঝে সুযোগ বুঝে জেল থেকে বেশ কয়েকজন আসামির পালিয়ে যাওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে । তবে জেল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এখনও কোনও মুখ খোলেননি।