দমদমের করোনা  আক্রান্তকে  নিয়ে হুলুস্থুলু পড়ে গেল বাগুইআটি নার্সিংহোমে। আক্রান্তের পরিবার জানিয়েছে,সল্টলেক আমরি-তে ভর্তি হওয়ার আগে বাগুইআটির নার্সিংহোমে ভর্তি  ছিলেন রাজ্য়ের চতুর্থ করোনা আক্রান্ত। যা প্রকাশ্য়ে আসতেই ওই নার্সিংহোমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। 

সস্ত্রীক ছত্তিশগড় ঘুরতে গিয়েছিলেন দমদমের আক্রান্ত, ট্রেন থেকেই সংক্রমণ !

নার্সিংহোমে ভর্তি থাকাকালীন কারা ওই ব্যক্তির চিকিৎসা করেছিলেন তাদেরও নজরদারি মধ্য়ে আনা হচ্ছে। যে ডাক্তার, নার্স ও অ্যাডেনডেন্ট করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছে তাদের ও যেতে হবে আইসোলেশনে। ইতিমধ্য়েই ওই নার্সিং হোমে পৌঁছে গিয়েছে এই বার্তা। যার জেরে  করোনা আতঙ্ক গ্রাস করেছে বাগুইআটির ওই নার্সিংহোমে। পরিবার সূত্রে খবর, আক্রান্ত হওয়ার আগে ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরে ঘুরতে গিয়েছিলেন দমদমের করোনা আক্রান্ত। সস্ত্রীক সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। 

দমদমের করোনা আক্রান্ত সংকটজনক, ছত্তিশগড়ে গিয়েছিলেন তিনি.

পরিবারের অনুমান, ট্রেন থেকেই ভাইরাস ছড়িয়েছে তাঁর শরীরে। জানা গিয়েছে, আজাদ হিন্দ এক্সপ্রেসে ছত্তিশগড়ে যান দমদমের করোনা আক্রান্ত। পরবর্তীকালে পুণে থেকে এই ট্রেন আসে। ট্রেনের কোনও ব্য়ক্তির থেকেই করোনা ভাইরাস এসেছ ৫৭ বছরের আক্রান্তের শরীরে। আগে আইসোলশেন রাখা হলেও এখন ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে তাঁকে। বর্তমানে চিকিৎসকদের কড়া নজরদারির মধ্য়ে রয়েছেন এই প্রবীণ। যার জেরে স্থাস্থ্য় দফতরকে চিন্তায় রেখেছে রাজ্য়ের চতুর্থ করোনা আক্রান্ত। 

করোনা রুখতে নিমপাতা খান, দিলীপের পর এবার মমতা.

শারীরিক অবস্থা ভালো না হওয়ায়, তাঁকে আইসোলেশন আইসিইউতে রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রবীণের পরিস্থিতি সংকটজনক। আগের তিনজন করোনা রোগীর ছিল বিদেশ যোগ। এবার দমদমের ৫৭ বছরের করোনা রোগীর সঙ্গে মিলল না বিদেশের যুক্তি। শোনা যাচ্ছে, বেসরকারি হাসপাতালের যে কর্মীরা ওই প্রবীণের চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন এখন তাদের চিহ্ণিত করে আলাদা রাখার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিগত কিছু দিন ধরে ওই প্রবীণ ব্যক্তি যাদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদেরও খোঁজ নিচ্ছে স্বাস্থ্য় দফতর। ইতিমধ্য়েই দমদমের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।   

পরিসংখ্য়ান বলছে, দমদমের ওই বাসিন্দাকে নিয়ে রাজ্য়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার। শনিবার  শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে ওই প্রবীণের। তিনি সল্টলেকে আমরি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সম্প্রতি কিছুদিন জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।  লালারস পরীক্ষা করে  প্রথম পরীক্ষাতে তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। আরও একবার পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করেন চিকিৎসকরা। ফের পরীক্ষায় পজিটিভ ফল আসায় তাঁকে করোনা রোগী হিসাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। 

হাসপাতাল সূত্রে খবর, আক্রান্ত দমদমের বাসিন্দা ৫৭ বছর বয়সী এক মধ্যবয়স্ক। তিনি জ্বর ও শুকনো কাশি নিয়ে চলতি মাসের ১৬ তারিখে সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে(AMRI) ভর্তি হন।  হাসপাতলে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর ১৯ তারিখ তার রিপোর্ট আসে। সেখানে জানা যায়, তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এই মুহূর্তে তাকে হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।