সুড়ঙ্গে সমাধান সূত্র বের করতে আপাতত বিদেশি প্রযুক্তিবিদরাই ভরসা ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো কর্তৃপক্ষের। বউবাজারে যে এলাকায় সুড়ঙ্গের মধ্যে জল ঢুকে বিপত্তি বেঁধেছে, সেখানে কীভাবে জল ঢোকা বন্ধ করে সুড়ঙ্গ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করা হবে, সেই সমাধানসূত্র বের করতে আপাতত চারজন বিদেশি প্রযুক্তিবিদের পরামর্শেই এগোচ্ছেন কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন বা কেএমআরসিএল-এর কর্তারা। 

বউবাজারে সমস্যা তৈরি হওয়ার পরেই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পল ভেরল নামে এক প্রযুক্তিবিদ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কলকাতায় এসেছিলেন। এর পরে আরও দুই বিশেষজ্ঞ এসেছেন। বুধবার এসে কাজ শুরু করার কথা আরও এক বিশেষজ্ঞের। আপাতত মেট্রো কর্তৃপক্ষের সামনে দু'টি চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, সুড়ঙ্গে জল ঢোকা বন্ধ করা। তার জন্য সুড়ঙ্গের মধ্যেই দু'টি দেওয়াল তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাটির উপর থেকে বিশেষ রাসায়নিক মিশ্রণ ঢেলে সুড়ঙ্গের বাইরে আস্তরণ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। তাতে একদিকে যেমন সুড়ঙ্গে জল ঢোকা বন্ধ হবে, সেরকমই ধস নামাও আটকাবে। 

আরও পড়ুন- একাধিক বাড়িতে কম্পন, বউবাজারে ভাঙল আরও এক বাড়ি

আরও পড়ুন- নতুন বাড়ি তৈরি করে দেবে মেট্রো, বউবাজার কাণ্ডে রাজ্যের প্রস্তাব মানল রেল

মেট্রো কর্তাদের কাছে দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হল সুড়ঙ্গের মধ্যে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত টানেল বোরিং মেশিনটিকে বের করে আনা। সেটি বের না করা গেলে নতুন মেশিন ঢুকিয়ে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজও শুরু করা যাবে না। আপাতত তাই কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে পড়েছেন কেএমআরসিএল-এর ইঞ্জিনিয়াররা। তবে কঠিন এই প্রক্রিয়া শেষ করে ফের নতুন করে কবে থেকে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ শুরু করা যাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছেই। মেট্রো কর্তারা মঙ্গলবারই নবান্নে বৈঠকের পরে জানিয়ে দিয়েছেন, বউবাজারে বিপত্তির জেরে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে অন্তত এক বছর বেশি সময় লাগবে।