তাঁর 'ব্রেন ডেথ'-এর কথা ঘোষণা করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কলেজ পড়ুয়া ছেলের হৃদযন্ত্র, লিভার ও কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নিলেন পরিবারের লোকেরা। ফের অঙ্গদানের নজির কলকাতায়।

উত্তর ২৪ পরগণার কাঁচরাপাড়া কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সুজয় কর্মকার। তাঁর পরীক্ষার সিট পড়েছিল নদিয়ার হরিণঘাটা কলেজে। জানা গিয়েছে, গত ৭ ডিসেম্বর বাইকে চেপে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন সুজয়। তাঁকে বাইক করে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছিলেন বন্ধু পাপন ঘোষ। দুর্ঘটনা ঘটে মোহনপুর এলাকায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান পাপন। গুরুতর আহত অবস্থায় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সুজয়। রবিবার চিকিৎসকরা জানান, ওই কলেজ পড়ুয়ার বাঁচার কোনও আশা নেই। তাঁর 'ব্রেন ডেথ' বা মস্তিষ্কের মৃত্যু হয়েছে। এরপরই ছেলের অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন সুজয়ের পরিবারের লোকেরা। তড়িঘড়ি অঙ্গদানের তোড়জোড় শুরু করে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।  জানা গিয়েছে, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে অমল হালদার নামে এক রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হবে মৃত সুজয় কর্মকারের হৃদযন্ত্র। লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য আনা হবে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে।  দ্রুত অঙ্গ স্থানান্তরের জন্য গ্রিন করিডরেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।  সুজয়ের চামড়া, চোখ ও দুটি কিডনি আপাতত এসএসকেএম হাসপাতালে সংরক্ষণ করা হবে।

আরও পড়ুন: সিগারেট খেতে খেতেই ঘুম, বন্ধ ঘরে বেঘোরে মৃত্যু বৃদ্ধের

সচেতনতা বাড়ছে। চিকিৎসকরা ব্রেন ডেথ ঘোষণা করার পর প্রিয়জনের অঙ্গদান করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন পরিবারের লোকেরা। কয়েক মাস আগেই বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়ে কলকাতা একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হন বর্ধমানের মেমারি-র এক যুবক। ব্রেথ ডেথের পর তাঁর হৃদযন্ত্র, কিডনি, লিভার ও ত্বক দান করার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের।  এমনকী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পর, তিন বছরের শিশুর কর্ণিয়ার দানের নজিরও আছে কলকাতায়।