ট্রাভেল এজেন্সির কর্তাদের অপহরণ ঘিরে কলকাতায় টান টান নাটক। পাঁচজনকে অপহরণ করে ২০০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হল। টাকা নিতে এসে ধরাও পড়ে গেল এক অপহরণকারী। কিন্তু এখনও পর্যন্ত খোঁজ নেই তিন অপহৃতের। 

ঘটনার সূত্রপাত এ দিন দুপুরে। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বাটার বাসিন্দা বেশ কয়েকজন ব্যক্তি মিলে দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুরের সাহাপুর কলোনিতে একটি ট্রাভেল এজেন্সির অফিস খোলেন। অভিযোগ, এ দিন দুপুরে জি়ঞ্জিরাবাজার এলাকা থেকে ওই ট্রাভেল এজেন্সির পাঁচ অংশীদারকে অপহরণ করে সাত থেকে আটজন দুষ্কৃতী। অপহৃতদের কাছ থেকে ২০০ কোটি টাকা দাবি করে তারা। 

সেই সময়ে অপহৃতরা জানান, তাঁদের অফিসে নিয়ে গেলে মুক্তিপণ দেওয়া সম্ভব। এই কথা শুনে কয়েকজন অপহরণকারী দুই অপহৃতকে নিয়ে নিউ আলিপুরের ওই অফিসে আসে। অপহরণকারীরা প্রত্যেকেই পুলিশ এবং সেনা পোশাকে ছিল। 

অফিসে ঢুকেই দুই অপহৃত কর্মীদের অপহরণের কথা জানিয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে এক অপহরণকারী ট্রাভেল এজেন্সির এক কর্তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কিন্তু গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। গুলির শব্দ শুনে এলাকার বাসিন্দারা অফিসের বাইরে জড়ো হন। বিপদ বুঝে পালানোর চেষ্টা করে অপহরণকারীরা। কিন্তু তাদের মধ্যে একজন সাধারণ মানুষের হাতে ধরা পড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় জনতা। 

দুই অপহৃত রেহাই পেলেও এখনও ওই ট্রাভেল এজেন্সির তিন কর্তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। ধৃত অপহরণকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পাশাপাশি ওই ট্রাভেল এজেন্সির দুই অংশীদারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। কী উদ্দেশ্যে এই অপহরণ, অপহৃতদের কোথায় রাখা হয়েছে, তার খোঁজও শুরু হয়েছে।