একসময়ে সংসদে এ রাজ্যে অনুপ্রবেশের সমস্যা  নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন তিনি। এখন আবার নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে পথে নেমেছেন।  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরুদ্ধে এবার দ্বিচারিতার অভিযোগ  তুললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। নিজের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে দুটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। শোরগোল পড়ে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতি। 

নাগরিকত্ব আইনে প্রতিবাদে এখন পথে নেমেছেন তিনি। ২০০৫ সালে কিন্তু এই এনআরসি ইস্যুতে লোকসভায় স্পিকারের মুখে কাগজ ছুঁড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার। আর বিরোধী এনডিএ-এর শরিক ছিল তৃণমূল। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নিজে ছিলেন লোকসভার সাংসদ।  তাঁর বক্তব্য ছিল, পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার বদলে দিচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা। বিষয়টি সংসদে তুলতে চেয়েছিলেন মমতা। সুযোগ না পেয়ে লোকসভার ওয়েলে নেমে আসেন তৃণমূলনেত্রী। কিন্তু তাতেও কাজ না হওয়ায় স্পিকারের মুখে কাগজ ছুঁড়ে দেন তিনি এবং নিজের আসনে ফিরে কাঁদতে শুরু করেন।  সেই ঘটনার পর পেরিয়ে গিয়েছে ১৪ বছর। তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।  বিরোধিতা করাই শুধু নয়, এ রাজ্যে নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি লাগু করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। 

কিন্তু তিনি নিজেই তো এ রাজ্যের অনুপ্রবেশের সমস্যায় সংসদে সোচ্চার হয়েছিলেন। তাহলে এখন কেন এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইনে বিরোধিতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।  এখানেই শেষ নয়। নিজের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে দুটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। 

 

 

 এর  আগে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহামিছিল করা নিয়ে আপত্তি তোলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তাঁর বক্তব্য়, মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে শহরে মিছিল হলে উত্তেজনা আরও বাড়বে।  নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে আন্দোলনের নামে তাণ্ডব চলেছে রাজ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মুখ্যমন্ত্রীকে আলোচনায় বসারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন রাজ্যপাল।   রাজভবনে তলব করেছিলেন মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজিকেও।