'যাঁরা হিংসার মধ্যে উন্নতির সম্ভাবনা অথবা সুযোগ খুঁজছেন, তাঁরা আদৌ নাগরিকই নন।' দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে এবার টুইট করলেন রাজ্য়পাল জগদীপ ধানখড়। টুইটে তিনি লিখেছেন, 'চিন্তাভাবনা বা কাজে হিংসাকে প্রশ্রয় দেওয়া নিন্দাযোগ্য বিষয়। ঘৃণাও একধরনের হিংসা। তাকে উপেক্ষা করা অথবা চুপ থাকা মানবতা-বিরোধী।'

আরও পড়ুন: নবীন পট্টনায়েকের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে মুখোমুখি অমিত-মমতা, অধরাই থাকল এনআরসি-এনপিআর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেদিন ভারতে পা রাখেন, সেদিনই সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দিল্লি। সোমবার জাফরাবাদ ও মৌজাবাদ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান সিএএ সমর্থকরা। সংঘর্ষে মারা যান দিল্লি পুলিশের এক হেড কনস্টেবল। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় দমকলের একটি গাড়ি, এমনকী, দুটি বাড়িতেও। সেই শুরু, হিংসার আগুন এখনও নেভেনি রাজধানীতে। বরং পরিস্থিতি উত্তরোত্তর আরও খারাপই হচ্ছে।  দিল্লিতে হিংসার এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৩৯ জন। আহত হয়ে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ২০০ জন্য। হিংসা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মৃতদের পরিবার পিছু দশ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। সরকারের তরফে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে আহত ও ক্ষতিগ্রস্থদেরও।

আরও পড়ুন: মোবাইলের টর্চ জ্বেলে পুরুলিয়ার গ্রামে ঢুকলেন বাবুল সুপ্রিয়, গ্রামের লোক বললেন 'রাজনীতি'

দিল্লিতে নজিরবিহীন এই হিংসার ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বস্তরেই। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর পদত্যাগ দাবি করেছে কংগ্রেস। রাতারাতি দিল্লি পুলিশ কমিশনার অমূল্য পট্টনায়েক সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।  তবে আগামী ৩৬ ঘণ্টার দিল্লিতে বড় কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।  বৃহস্পতিবার কয়েক ঘণ্টার জন্য রাজধানীতে ১৪৪ ধারাও শিথিল করে দেয় প্রশাসন। উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে হিংসার ঘটনার তদন্তের জন্য সিট গঠন করেছে দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা।