রাজভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে ঝাড়া এক ঘণ্টা বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  বৈঠকের পর টুইট করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। টুইটে তিনি লিখেছেন, 'রাজভবনে মুখ্য়মন্ত্রীর সঙ্গে সদর্থক আলোচনা হয়েছে।'  কিন্তু কী নিয়ে আলোচনা হল? সে বিষয়ে নবান্ন বা রাজভবনের তরফে অবশ্য কিছু জানানো হয়নি। 

কখনও ঘনিষ্টমহলে, তো কখনও আবার প্রকাশ্যেই, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কাজ ও পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। নবান্নের সঙ্গে রাজভবনের সম্পর্ক একেবারেই তলানিতে এসে ঠেকেছে। প্রশ্ন উঠেছে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের নিরপেক্ষতা নিয়েও। সংঘাত এতটাই তীব্র হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে আচার্য তথা রাজ্যপালের ক্ষমতা খর্ব করতে নতুন আইন এনেছে রাজ্য সরকার! এমনকী. উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে বিল আটকে রাখার অভিযোগে বিধানসভায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন শাসকদলের বিধায়করা। রাজ্যপাল নিজেও উদ্যোগী হয়ে বেশ কয়েকবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলোচনায়ও ডেকেছিলেন। কিন্তু লাভ হয়নি।  তলব পেয়েও রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে বৈঠক করতে রাজভবনে যাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরাও।

আরও পড়ুন: মুখ থুবড়ে পড়েছে মমতার স্বয়ংসিদ্ধা, কেন এই হাল

রাজ্য বিধানসভায় এখন বাজেট অধিবেশন চলছে। রীতিমাফিক অধিবেশনের শুরুতে রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া বক্তৃতা পড়বেন তো রাজ্যপাল? তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছিল। তবে শেষপর্যন্ত অবশ্য অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি। অবশেষে সিদ্ধান্ত বদলালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বেলা সাড়ে  বারোটা নাগাদ রাজভবনে পৌঁছন তিনি।  রাজ্যপালের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক চলে পাক্কা একঘণ্টা। রাজভবন থেকে নবান্নের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি তিনি। এরআগে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও।