ব্যবধান মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার। এবার আর দুই নম্বর গেট দিয়ে নয়, প্রোটোকল মেনে তিন নম্বর গেট দিয়েই বিধানসভায় ঢুকলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধানকড়। তাঁকে জানানো হল অভ্যর্থনাও।  রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতে আবহে রাজ্যপালের বার্তা, 'নবান্ন, রাজভবন কিংবা কালীঘাটের বাসভবন, মুখ্যমন্ত্রী যেখানে বলবেন, আমি সেখানেই আলোচনায় বসতে রাজি। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি।'

শুক্রবার ছিল তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী। বি আর আম্বেদকরকে শ্রদ্ধা জানাতে এদিন সকালে সস্ত্রীক বিধানসভা যান রাজ্যপাল জগদীপ ধানকড়।  তবে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি তাঁকে। প্রোটোকল অনুযায়ী তিন নম্বর গেট দিয়েই বিধানসভায় ঢোকে রাজ্যপালের কনভয়।  রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানকে স্বাগত জানান বিজেপি বিধায়করা। ছিলেন জোয়েল মুর্মু, স্বাধীন সরকার, সুজিত চক্রবর্তী-সহ আরও অনেকেই।  বিধানসভা চত্বরে আম্বেদকরের মূর্তিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন রাজ্যপাল ও তাঁর স্ত্রী।  তবে বিধানসভার স্পিকারের ভূমিকায় তিনি যে খুশি নন, তা স্পষ্টই জানিয়েছেন জগদীপ ধানকড়। তিনি বলেন, 'স্পিকার আমাকে কোনও নির্দেশ দেননি। দিতেও পারেন না। আমি বৃহস্পতিবার এসেছিলাম। বি আর আম্বেদকরকে শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার আবার এলাম।'

এর আগে বৃহস্পতিবারও বিধানসভায় গিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধানকড়।  কিন্তু স্বাগত জানানো তো দূর, অধিবেশন স্থগিত থাকায় সেদিন বিধানসভার সবকটি গেটই বন্ধ ছিল। এমনকী, প্রোটোকল অনুযায়ী যে গেট দিয়ে রাজ্যপাল বিধানসভায় ঢোকেন, সেই তিন নম্বর গেটেও তালা ঝুলছিল। রাজ্যপালকে দেখেও মার্শালরা গেট খুলতে রাজি হননি বলে অভিযোগ। বিধানসভা চত্বরে দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে থাকতে হয় জগদীপ ধানকড়কে। শেষপর্যন্ত প্রোটোকল ভেঙে দুই নম্বর গেট দিয়ে রাজ্যপালকে বিধানসভায় ঢুকতে হয়। ঘটনায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধানকড়। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিধানসভা আসবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যপাল। স্পিকার চিঠি দিয়ে তাঁকে জানান, অধিবেশন স্থগিত থাকায় তিনি হয়তো বিধানসভা থাকতে পারবেন না। স্পিকারের চিঠি পাওয়া সত্ত্বেও রাজ্যপালের বিধানসভা যাওয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।  সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার ফের বিধানসভায় হাজির হলেন রাজ্যপাল। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসারও বার্তা দিলেন।  রাজ্যপালের অবস্থান বদলে জল্পনা তুঙ্গে রাজনৈতিক মহলে।