ফরওয়ার্ড ব্লকের পর এবার গুমনামী বাবা ছবির বিরুদ্ধে সরব হলেন নেতাজির নাতনি। সৃজিত মুখোপাধ্য়ায়ের ছবিকে ইতিহাস বিকৃতি বলে দাবি করলেন চিত্রা বসু। কলকাতা প্রেস ক্লাবে প্রকাশ্য়েই এই অভিযোগ করেছেন তিনি।  

মুক্তি পাওয়ার পরও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি গুমনামী বাবার। বার বার উঠে আসছে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জীবন বিকৃতির অভিযোগ। ছবিতে নেতাজিকে সাধু হিসাবে উপস্থাপন করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন বহু মানুষ। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়ল নেতাজির নাতনি চিত্রা বসুর। কলকাতা প্রেস ক্লাবে আজাদ হিন্দ বাহিনীর ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি বলেন, ১৯৪৩ সালে ২১শে অক্টোবর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ সরকার গঠন করেছিলেন। তখন বিশ্বের কয়েকটি দেশ এই সরকারকে ভারতবর্ষের প্রথম প্রাদেশিক সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের দেশের কিছু মানুষ নেতাজিকে অবমাননা করার চেষ্টা করছেন। তাঁকে নিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে সিনেমা বানানো হচ্ছে। সুভাষচন্দ্র বসুকে পরিকল্পনামাফিক সাধুবাবা সাজিয়ে জনসমক্ষে এনে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু এই প্রচেষ্টা সফল হবে না। 

এই বলেই অবশ্য থেমে থাকেননি চিত্রা বসু। তাঁর দাবি, সুভাষচন্দ্র বসুর মতো ব্যক্তিত্বকে যে ভাবে ছবিতে দেখানো হয়েছে, তাতে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ছবি না দেখানো হয়, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি। রাজ্য থেকেই এই প্রতিবাদ যাতে দেশে ছড়িয়ে পড়ে একন সেটাই লক্ষ্য় আমাদের। রাজ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, ২ অক্টোবর গুমনামী বাবা ছবি মুক্তির আগেই এই সিনেমা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ছবি মুক্তির বিরুদ্ধে পথে নামে ফরওয়ার্ড ব্লক। প্রেক্ষাগৃহে গুমনামী বাবার ছবি মুক্তি নিয়ে আপত্তি জানান ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা নরেন চট্টোপাধ্য়ায়। বেগতিক দেখে ছবির ট্রেলর নিয়ে খোদ পার্টি অফিসে হাজির হন সৃজিত। সবার সামনেই চেল সেই ট্রেলর। ট্রেলর শেষে সৃজিত বলেন, নেতাজির মতো ব্য়ক্তিত্বকে খাটো করে দেখানোর কোনও চেষ্টা বা ইচ্ছা তাঁর নেই। তিনি শুধু গুমনামী বাবার সঙ্গে নেতাজিকে জড়িয়ে যে জল্পনা হয়েছিল তা তুলে ধরেছেন। তাঁর কাছে নেতাজি দেশের আইকন, আলোচনার মাধ্য়মেই দেশের আইকন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে পারেবন সবাই।

যদিও সৃজিতের এই বক্তব্যে চিড়ে ভেজেনি। উল্টে ছবির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করেন ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা দেবব্রত রায়। যদিও হাইকোর্টে ছবির ওপর নিষেধাজ্ঞার মামলা খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বলে, গুমনামী বাবা ছবিকে ছাড়পত্র দিয়েছে সেন্সর বোর্ড। নেতাজি কীভাবে মারা গেছেন সেই নথিও কারও কাছে নেই। তাই গুমনামী বাবা ছবিতে নেতাজির জীবনকে বিকৃত করে দেখানো হয়েছে, এটা বলা যাবে না।