অভিযোগ, জেলের ভেতর চলছে নানা অনিয়ম। বন্দিদের ঠিকমতো খেতে দেওয়া হয় না। নানারকম বেআইনি কাজকর্ম চলে জেলের ভেতর। অবাধে বিক্রি হয় গাঁজা ও নানারকমের মাদক। আর জেল কর্তৃপক্ষের পুরোমাত্রায় মদত থাকে তাতে। এর 'বিহিত' করতেই নিজের সেল থেকে জেলের ছাদে উঠে পড়ে এক বন্দি। সেখানে উঠে হাতে সাদা কাপড়  নিয়ে তাতে লেখে, 'জেলে কাটমানির প্রতিবাদে দিদিকে বলো'।  তারপর ওই বন্দিকে নামানোর জন্য় পাঁচঘণ্টা ধরে চলতে থাকে রুদ্ধশ্বাস নাটক। শনিবার হাওড়া জেলের এই ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে সেখানকার নিরাপত্তা ব্য়বস্থা নিয়ে।

হাওড়া সিটি পুলিশ ও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ মহম্মদ সোহেল নামে এক বন্দি কোনওভাবে জেলের দোতলার ছাদে উঠে পড়ে। খুনের ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ওই আসামী ছাদে উঠে হাত-পা ও বুকে ব্লেড চালাতে থাকে। রক্তাক্ত হয়ে যায় তার শরীরে। তারপর একটি সাদা কাপড়ে লাল রং দিয়ে সে লেখে, 'জেলে কাটমানির প্রতিবাদে দিদিকে বলো'। চিৎকার করে তাকে বলতে শোনা যায়-- জেলের ভেতর চলছে নানা অনিয়ম। কাটমানি দিলে কিছু বন্দিদের মদ-গাঁজা সব এনে দেওয়া হয়। ঠিকমতো খেতেও দেওয়া হয় না বন্দিদের।  পুরো বিষয়টা জেল কর্তৃপক্ষের গোচরে থাকা সত্ত্বেও তারা কোনও ব্য়বস্থা নেয় না। তাই তার দাবি, হয় পুরমন্ত্রী নয় তো মুখ্য়মন্ত্রীকে আসতে হবে। তাঁদেরকে সে সব অভিযোগের কথা জানাবে। আর তবেই সে ছাদ থেকে নামবে।

এই পরিস্থিতিতে রীতিমতো চিন্তায় পড়তে থাকে জেল কর্তৃপক্ষ। ব্লেড দিয়ে নিজেকে রক্তাক্ত করতে করতে ওই বন্দি আত্মহত্য়ার হুমকি দেয়। এমনকি, তাকে জোর করে নামানোর চেষ্টা করা হলে সে ঝাঁপ দেবে বলেও চিৎকার করতে থাকে।

এমতাবস্থায় সোহেলকে ধরতে কারারক্ষীরা ছাদে উঠতেই সে পাথর ছুড়তে শুরু করে। কারারক্ষী ও সিভিল ডিফেন্সের প্রচেষ্টা কার্যত ব্য়র্থ হলে আসে দমকল। কিন্তু দমকল  এসে সিঁড়ি লাগিয়ে ছাদে উঠতেই ওই সিঁড়ি ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে সে। ছাদে থাকা জলের ট্য়াঙ্ক ফেলে দেয় সে। প্রায় পাঁচঘণ্টা পর, বিকেল সাড়ে তিনটের সময়ে, সোহেলকে কথায় ব্য়স্ত রেখে পিছন দিকে পুলিশ ছাদে উঠে তাকে বাগে আনে। তারপর মই দিয়ে তাকে নিচে নামানো হয়। অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে জেল কর্তৃপক্ষ।