কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক বসানো নিয়ে আগেও চিঠি দিয়েছিলেন। সেই চিঠির উত্তর না আসায় ফের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্য়পাল। মমতাকে পাঠানো চিঠিতে রাজ্যপাল লিখেছেন, ‌কলকাতা পুরসভার ৬ মে ২০২০–তে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি নিয়ে মুখ্য সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলাম। উনি সেগুলির উত্তর না দেওয়ায় আমি গত ৭ মে আপনার কাছেও এই বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। এখনও পর্যন্ত সেই তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছি।‌

এই বলেই অবশ্য থেমে থাকেননি রাজ্য়পাল। মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে ধনখড় বলেছেন, ‌কলকাতা পুরসভা ৬ মে ২০২০–এর বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে বিরোধী দলগুলিসহ নানাপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে ওই তথ্য়গুলি প্রয়োজন। সেই কারণেই আমি আমার ৭ মে–এর চিঠিতে তা জানতে চেয়েছিলাম। ‌ 

এদিনের চিঠিতে  মুখ্যমন্ত্রীকে আবারও সংবিধান অনুসারে চলার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল। তিনি লিখেছেন, ‌আপনি যেমন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আপনার দায়িত্ব পূরণের ক্ষেত্রে সংবিধানকে অনুসরণ করে চলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। রাজ্যপাল হিসাবে আমিও তা রক্ষা ও পালনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কলকাতা পুরসভার সংক্রান্ত যে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে তা সঙ্গতভাবে ১৬৭ নম্বর ধারার অন্তর্ভুক্ত। অনুচ্ছেদ ১৬৭ অনুযায়ী রাজ্যপালের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনার  নীরবতা দুর্ভাগ্যজনক ও অনুচ্ছেদ ১৬৪–এর শপথের পরিপন্থী। যা সংবিধানের‌ ভাবধারার সঙ্গে মানানসই নয়।

রাজ্য়ের রাজনৈতিক চিত্র বলছে, কদিন আগেই ফিরহাদ হাকিমকে মেয়র পদের সময় শেষ হওয়ায় প্রশাসক পদে বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে যা বিরল। ১৪ জনের বোর্ড  গড়ে সেখানে তৃণমূলের সদস্যদেরই রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন। বিরোধীদের এই অভিযোগের পরই পুরসভায় প্রসাসক নিয়োগের সরকারি বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে জানতে চান রাজ্য়পাল।