কোনও রাখ ঢাক না করে এবার মুখ্যমন্ত্রীকে মিডিয়ায় লম্বা-চওড়া দাবি  না করে দ্রুত ত্রাণের ব্যবস্থা করতে বললেন  রাজ্য়পাল জগদীপ  ধনখড়। রাজ্য়ের  আমফান পরবর্তী পরিস্থিতি বলছে, বুধবার আটদিনেও স্বাভাবিক হয়নি শহর কলকাতার পরিস্থিতি। এখনও শহরের বহু ঝায়গায় জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি। যা নিয়ে মুখ্য়মন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন রাজ্য়পাল জগদীপ ধনখড়।  

এদিন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে রাজ্যপাল লিখেছেন, বিদ্যুৎ, জল এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে। এটা সংবাদমাধ্যমে লম্বা-চওড়া দাবি করার সময় নয়। এখন দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াই আসু কর্তব্য। তবে শুধু রাজ্য়পাল নন, আমফান পরবর্তী পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায় কলকাতা পুরসভার ওপর চটেছেন খোদ তৃণমূলের নেতা সাধন পান্ডে। ফিরহাদ হাকিমের দিকে এই ব্যর্থতার দায় চাপিয়েছেন তিনি। 

এখানেই শেষ নয়, কলকাতা পুরসভার কাজ নিয়ে মন্তব্য করেছেন খোদ শাসক দলের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। পুরোনো আমলের গাছ কাটার যন্ত্র নিয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা অসম্ভব বলে মন্তব্য  করেছেন তিনি।  এদিন শাসক দলের মন্ত্রীদের  সেই প্রসঙ্গ টেনেও খোঁচা দেন ধনকড়। টুইটে লেখেন, জনসমক্ষে রাজ্যের মন্ত্রীরা যে একে অন্যের দিকে আঙুল তুলছেন। অন্যদিকে বিধায়ক জনতার হাতে মার খাচ্ছেন। এসব দেখলেই বোঝা যাচ্ছে রাজ্য়ের পরিস্থিতি কী।

সাতদিন কেটে গলেও এলাকা বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক  না হওয়ায় গতকালই বিদ্যুতের দাবিতে জনতাকে শান্ত করাতে গিয়ে মার খেয়েছিলেন মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আবদুল খালেক মোল্লা। এখনও তিনি সিএমআরআই হাসপাতালে ভর্তি। কদিন আগে রাজ্য়ের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দায় সিইএসসির ওপর চাপিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। খোদ কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক মণ্ডলীর প্রধান হয়ে একই কথা শোনা গিয়েছিল ফিরহাদ হাকিমের  মুখে। 

সিইএসসির দিকে আঙুল তুলে মমতা বলেছেন,ওটা একটা প্রাইভেট সংস্থা। ওটা সিপিএমের আমলের সংস্থা। ওর দায় রাজ্য় সরকারের নয়। এদিকে কলকাতায় আমফান পরবর্তী পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়ায় মহানগরবাসীর সঙ্গে সরব হয়েছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ,আবহাওয়া দফতরের চূড়ান্ত সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও মুখ্য়মন্ত্রী ঘরে বসে নাকি মনিটরিং করলেন। দিনরাত এক করে কী কাজ করলেন, যে রাজ্য়বাসীই  এখন ওনাদের বিধায়কদের দেখলেই মারমুখী হচ্ছে।