বউবাজার বিপর্যয়ের জেরে বন্ধ রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর কাজ। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্ষতি হচ্ছে টানেল বোরিং মেশিনের। এবার সেই মেশিন সরাতে আদালতের দ্বারস্থ হল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। আগামী সোমবার এই মামলার রায় দেবে কলকাতা হাইকোর্ট। যদিও পাঁচ মিটার মেশিন সরানোর কথা শুনে আতঙ্ক শুরু হয়েছে বউবাজারের বাসিন্দাদের মধ্য়ে।

বউবাজার বিপর্যয়ের জেরে ইষ্ট ওয়েস্ট মেট্রোর সুড়ঙ্গ খোঁড়ার দ্বিতীয় টানেল বোরিং মেশিন বা টিবিএম কি ৫ মিটার সরানোর অনুমতি পাবে, আগামী সোমবার এর উত্তর মিলবে কলকাতা হাইকোর্টে। শুক্রবার মেট্রো কর্তৃপক্ষ বিশেষজ্ঞ কমিটির দেওয়া ৩ পাতার একটি রিপোর্ট পেশ করে প্রধান বিচারপতি বিচারপতি থোট্টাথিল ভাস্করন নায়ার রাধাকৃষ্ণন এবং বিচারপতি  অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ রিপোর্ট দিয়ে জানায়, মেশিনটি ৫ মিটার সামনে এগিয়ে নিয়ে গেলে বউবাজার এলাকার  বাসিন্দাদের জীবন ও সম্পত্তিহানির কোনও সম্ভাবনা নেই৷ 

সেপ্টেম্বরের শুরুতেই বউবাজারে মাটির নীচে সুড়ঙ্গ খুঁড়তে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে প্রথম টানেল বোরিং মেশিন। বউবাজারের বহু পরিবারের বাড়ি ভেঙে পড়ে হুড়মুড়িয়ে। পরে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায় এবংং ক্ষতিপূরণও দেয়।   এদিকে, সুড়ঙ্গের তলায় দ্বিতীয় মেশিনটি প্রথমটির থেকে কিছুটা পেছনে থাকায় সেটি অক্ষতই ছিল। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশে ইস্ট  ওয়েস্ট মেট্রোর সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকায় দ্বিতীয় মেশিনটিও মাটির তলায় আটকে রয়েছে৷ 

রক্ষণবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে এখন মেশিনটিতে। এর জন্য কলকাতা মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ কলকাতা হাইকোর্টে দ্বিতীয় মেশিনটি মেরামতি জন্য ৫ মিটার সরানোর অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। আদালত গত ৮ নভেম্বর কেএমআরসিএল কর্তৃপক্ষকে এর জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেয়। এদিন সেই রিপোর্ট জমা পড়ে। রিপোর্ট জমা দেন আইনজীবী জিষ্ণু সাহা। রিপোর্ট দিয়ে তিনি জানান, নির্মল চন্দ্র স্ট্রিটের কাছে তাদের যে দ্বিতীয় মেশিনটি রয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সেটি ৫ মিটার এগিয়ে নিয়ে গেলে বউবাজারের বাসিন্দাদের জীবন ও সম্পত্তিহানির কোনও আশঙ্কা নেই। এছাড়া মেশিনটি সরানোর কাজ পুরোপুরি বিশেষজ্ঞ কমিটির তদারকিতেই হবে।

যদিও মামলাকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার আইনজীবী সপ্তাংশু বসু বলেন, ওখানে যেকোনো কাজ করার আগে বিশেষজ্ঞ কমিটির পরামর্শ নিতে হবে৷ এবং আদালতের অনুমতিরও প্রয়োজন রয়েছে।আদালতও এদিন জানিয়ে দিয়েছে, বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট পড়ে নিয়ে তবেই এবিষয়ে কিছু জানানো হবে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে।  ফলে দ্বিতীয় টিবিএম মেশিনের ভাগ্য নির্ভর করছে এখন আদালতের হাতে৷  এদিকে মেশিন সামাান্য সরানোর কথা হচ্ছে দেখে চিন্তায় ঘুম ছুটেছে বউবাজারের বাসিন্দাদের। টিবিএল বা টালেল বোরিং মেশিন সরাতে গেলে ফের বাড়িতে ধস নামবে কিনা তা নিয়ে আতঙ্কে তাঁরা।