বউবাজারে ফের বিপর্যয়। মেট্রোর কাজ চলাকালীন ফাঁটল জলের পাইপ। গোটা এলাকা জলহীন।  সোমবার বউবাজারে দুটি বাড়ি ভাঙবে কেএমআরসিএল। ফাটলের জেরে মোট তিনটি বাড়ি ভাঙার অর্ডার নেওয়া হয়েছে। বাস্তুহারাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অন্যত্র।

বউবাজারে ফের বিপর্যয়। মেট্রোর কাজ চলাকালীন ফাঁটল জলের পাইপ। গোটা এলাকা জলহীন। সোমবার স্যাকরাপাড়ার গলির উলটো দিকেই চলছি মেট্রোর কাজ। মেট্রো কাজ চলকালীন আচমকাই সকালে গলির ভিতরে ফেঁটে যায় জলের লাইন। ইতিমধ্য়েই ঘটনাস্থলে পৌছেছেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। কার্যত গোটা এলাকায় জল সরবারহ বন্ধ। বাড়ি ফাঁটলের পর এবার পাইপ লাইন ফাঁটলে চরম দুর্ভোগের মুখে বউবাজারবাসী। জানা গিয়েছে, সোমবার বউবাজারে দুটি বাড়ি ভাঙবে কেএমআরসিএল। ফাটলের জেরে মোট তিনটি বাড়ি ভাঙার অর্ডার নেওয়া হয়েছে। বাস্তুহারাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অন্যত্র।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বউবাজার মেট্রো প্রকল্পের ফাঁটলের জেরে ইতিমধ্যেই ক্ষোভে ফুঁসছে ঘরছাড়াবাসিন্দারা। তার উপর আরও বাড়ি ভাঙা হবে শুনে মেজাজ হারিয়েছে অনেকেই। চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঘুম উড়েছে বউবাজারের দুর্গাপিতুরি লেনের বাসিন্দাদের।বউবাজারের দুর্গাপিতুরি লেনের বাকি বাড়িগুলির বিষয়ে কলকাতা পুরসভার সঙ্গে কথা হলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দুর্গাপিতুরি লেনে প্রথম দফায় দুটি বাড়ি ভাঙা হবে বলে জানা গিয়েছে। ১৬ এবং ১৬ নং এ এই দুটি বাড়ি ভাঙা হবে বলে জানা গিয়েছে। বাড়িতে লোহার বিম দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া হবে। সকাল থেকেই বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন মালিকরা।মাথার উপরের ছাদটাই যে হারিয়ে যাচ্ছে। এতদিনের সব সহায়, সম্ভল হারিয়ে যেতে বসেছে। কটা বাড়ি ভাঙা হবে, আদৌ বাড়ি ভাঙা হলে ক্ষতিগ্রস্তদের যাবতীয় জিনিস কোথায় যাবে, এসব নিয়ে ঘুম উড়েছে সবার। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই কেন বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, দায়িত্ব নেবে কি তবে কেমএমআরসিএল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। রবিবার সকালে এনিয়ে কেমএমআরসিএল-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাদানুবাদ শুরু হয় বাড়ির মালিকদের।

আরও পড়ুন, 'সবাই শান্তির পথ অনুসরণ করুক', বুদ্ধ পূর্ণিমায় শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

প্রসঙ্গত, মেট্রো প্রকল্পের জেরে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই বউবাজারে একাধিক বাড়ি-রাস্তায় ফাঁটল দেখা যায়। মেট্রোর কাজ চলাকালীন বউবাজারের দুর্গাপিতুরি লেনের ৮ থেকে ১০ টি বাড়িতে ফাঁটল দেখা গিয়েছে। রাত যত বেড়েছে, বাড়ির ফাঁটল তত চওড়া হয়েছে।মেট্রো রেলের যেখান দিয়ে টানেল বোরিং মেশিন তোলা হয়েছিল, সেখানে কংক্রিট করার কাজ চলছে। কিন্তু তা সত্ত্বও কোনও কারণে মাটির নীচ থেকে জল উঠে আসে। ওই জায়গায় কংক্রিট দিয়ে ভরাট করা হলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত।সুরঙ্গের ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসছে অবিরাম জল, রাতভোর বোজানোর চেষ্টা করা হয়েছে। টানা কাজ করার পর সেই ছিদ্র বোজানো সম্ভব করেন কেএমআরসিল-র কর্মীরা। শুক্রবার মেট্রোর সঙ্গে চলে কলকাতা পুরসভার বৈঠক। এরপরেই সিদ্ধান্ত নেওযা হয় কেমএমআরসিএল-র তরফে।

আরও পড়ুন, গত ২৪ ঘন্টায় কোভিডে আক্রান্ত কতজন ? শহরে 'হটস্পট' চিহ্নিত করে কড়া নজরদারি পুরসভার

আরও পড়ুন, আজ থেকেই দক্ষিণবঙ্গে বাড়বে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বর্ষণে ভিজবে কি তিলোত্তমাও