আদি রসে যারপরনাই সিক্ত স্ত্রী। স্বামীকে তিনি পেতে চান এক্কেবারে পর্ন ভিডিও-র নায়কদের স্টাইলে। স্বামী বেচারার হাল খারাপ। না-না বলেও নিস্তার মেলে না। স্ত্রী তাঁকে দিয়ে পর্ন ভিডিও নায়কদের কীর্তিকলাপ করিয়েই ছাড়েন। তথ্য-প্রযুক্তি অফিসে কাজ করার ক্লান্তি, তারপরে বাড়ি এসে স্ত্রীর সহজ-সরল আদরের বদলে এমন সব কাজ-কর্ম করতে হয় যে স্বামী বেচারার তখন মনে হয় 'দিল্লি-র লাড্ডু না খেলেও চলে'। নিস্তার আর আসে কই! কারণ শরীর খারাপ বললে ডাক্তার স্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ খাইয়ে দেয়। বাহানা দিলেও নিস্তার মেলে না। স্ত্রী-র কথা ভেবে শেষমেশ সমস্ত কিছুই মেনে নেন স্বামী। এমন এই ঘটনা বেঙ্গালুরু-তে। 

আরও পড়ুন- হস্তমৈথুন কি মহিলাদের ক্ষেত্রে শারীরিক অসুবিধা তৈরি করতে পারে, কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান

আর যাদের নিয়ে এই ঘটনা- তাঁদের মধ্যে একজন কলকাতার বাসিন্দা। অন্যজন উত্তর প্রদেশের। যিনি স্ত্রী-র ভূমিকায় তিনি কলকাতার-ই মেয়ে। পেশায় চিকিৎসক। আর স্বামী-র ভূমিকায় যিনি তিনি উত্তর প্রদেশের হলেও বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী হিসাবে বেঙ্গালুরুতে কর্মরত। 

আরও পড়ুন- পায়ুদ্বারে কাঠের যৌনাঙ্গ, ফেসবুক বন্ধুর বিকৃত যৌনাচারের শিকার কলেজ ছাত্র

একটি মেট্রিমোনিয়াল সাইট দেখে দুজনের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। সাতপাকে বাধা পড়ার পর আস্তে আস্তে সামনে আসতে থাকে স্ত্রী-র হট-হট ব্যাপারস্যাপার। স্ত্রী নাকি ততদিনে বাড়িতে স্বামীর সামনেই ল্যাপটপ ও টিভি-তে পর্ন দেখাও শুরু করে দিয়েছিলেন। এমনকী তাঁদের যৌন সঙ্গমের এপিসোড জুড়ে যাতে পর্ন ভিডিও-র প্রভাব থাকে তার জন্য নাকি স্বামীকে উদ্বুদ্ধ করতেন স্ত্রী। এমন করতে করতেই একদিন স্বামী বেচারার হাতে এসে যায় স্ত্রী-র মোবাইলে থাকা একটি পর্ন ভিডিও। যেখানে স্বামী তাঁর স্ত্রী-কে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে যৌন সঙ্গম করতে দেখেন। রেগে কাই স্বামী। স্ত্রী নাকি সে যাত্রায় বুঝিয়েছিলেন এই ভিডিওটা তাঁর বিয়ে-র আগে। তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক নাকি যৌন সঙ্গমের এই ভিডিওটা রেকর্ড করে রেখেছিল। এই ভিডিওটা মোবাইলে পাঠিয়ে প্রাক্তন প্রেমিক ব্ল্যাকমেল করে বলেও স্বামী-কে নাকি বলেছিলেন স্ত্রী। 

আরও পড়ুন- একরাতের জন্য উদ্দাম যৌনজীবন, একসঙ্গে তিন সন্তানের মা হলেন মহিলা

মোবাইলে পর্ন ভিডিও কেলেঙ্কারির রেশ মেলাতে না মেলাতেই স্বামী এবার অনলাইনে হদিশ পান আরও কিছু পর্ন ভিডিও-র। যেখানে তিনি একাধিক পুরুষের সঙ্গে স্ত্রী-কে আবিষ্কার করেন। কলকাতার ডাক্তার মেয়ে-র এই রাস-লীলা দেখে নাকি মাথায় হাত পড়ে যায় স্বামীর। তিনি স্ত্রী-কে এই নিয়ে জিজ্ঞেস করেন। উত্তরে নাকি স্ত্রী জানান, আসলে বিয়ের আগে এই সব পুরুষদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। কিন্তু, সেই ব্যক্তিগত ভিডিও কীভাবে অনলাইনে আপলোড হল তা নিয়ে নাকি কোনও ধারনা তাঁর নেই বলেও স্বামী-কে জানিয়ে দেন স্ত্রী। 

স্বামী অবশ্য স্ত্রী-র উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তিনি স্ত্রী-কে বিদায় জানিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে ডিভোর্স অফিসার বিএস সরস্বতীর দ্বারস্থ হন স্বামী। সেখানে স্বামী সাফ জানিয়ে দেন তিনি এই বিবাহবন্ধনে আর থাকতে রাজি নন। স্বামীর বয়ান শুনে স্ত্রীকে-ও ডেকে পাঠান ডিভোর্স অফিসার বিএস সরস্বতী। স্ত্রী-র মুখ থেকে তিনি পুরো ঘটনা শোনেন। বিএস সরস্বতী পরে জানিয়েছেন, ওই স্ত্রী নিজের সমস্ত কথাই বলেছে এবং বিয়ের আগে যে একাধিক পুরুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল সে কথাও জানিয়েছেন। এমনকী, পর্ন ভিডিও-তে তাঁর যে আসক্তি সে কথাও লুকোননি। তবে, কোনওভাবেই স্বামী-কে ছাড়তে রাজি নন স্ত্রী। যেন তেন প্রকারে নাকি বিয়ে টেকাতে বদ্ধপরিকর ওই স্ত্রী। 

শেষমেশ স্বামী ও স্ত্রী-কে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন বিএস সরস্বতী। দুজনে যাতে একসঙ্গে থাকতে পারেন সে ব্যাপারে নাকি দুজনকেই নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তাঁর আশা কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে এবং বিয়েও টিকে যাবে।