ফেসবুকের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল বন্ধুত্ব। আর সেই বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসেই ভয়াবহ যৌন লালসার শিকার হল এক কলেজ ছাত্র। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির ব্যান্ডেলে। গুরুতর আহত ওই ছাত্রকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছে তার পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই কিশোরের ফেসবুক বন্ধু- সহ মোট দু' জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

সোমবার গভীর রাতে ব্যান্ডেল স্টেশনের কাছে অচৈতন্য অবস্থায় ওই যুবককে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁরাই ওই কলেজ পড়ুয়াকে উদ্ধার করে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। এর পর হাসপাতাল থেকেই ওই ছাত্রের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা পৌঁছলে চিকিৎসকরা জানান, কলেজ পড়ুয়ার পায়ুদ্বারে কাঠের কিছু ঢোকানো রয়েছে। ফলে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। 

এর পরে রাতেই তাঁকে ই এম বাইপাস লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই অস্ত্রোপচার করে যুবকের শরীর থেকে একটি কাঠের তৈরি একটি কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ বের করেন চিকিৎসকরা। 

এই ঘটনায় কার্যত স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছে কলেজ ছাত্রের পরিবার। চুঁচুড়া থানায় দায়ের করা অভিযোগে তাঁরা জানায়, ওই কলেজ ছাত্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার মগরাহাটের বাসিন্দা। গত ৬ জানুয়ারি কাজে আছে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। এর পর গভীর রাত পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় বাড়ির থেকে ফোন করা হয় ওই ছাত্রকে। কিন্তু ফোন সুইচড অফ ছিল। পরে হাসাপাতাল থেকে খবর পেয়ে চুঁচুড়া পৌঁছন তাঁরা। 

ওই ছাত্রের পরিবারের আরও অভিযোগ, যৌন অত্যাচার করার পাশাপাশি তার মোবাইলও নিয়ে নিয়েছে অভিযুক্তরা। খোয়া গিয়েছে হাতের আংটিও। তাঁর উপরে অত্যাচারের ভিডিও মোবাইলে তুলে রাখা হয়েছে বলেও ওই কলেজ ছাত্র জানিয়েছে বলে দাবি পরিবারের। 

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ব্যান্ডেলের দেবানন্দপুর বকুলতলা মধ্যমপাড়ায় পেশায় কাঠ মিস্ত্রি মাধব মণ্ডলের বাড়িতে এসেছিল ওই কলেজ ছাত্র। বশির আলি নামে বছর কুড়ির আরও এক কলেজ পড়ুয়াও সেখানে উপস্থিত ছিল। মাধব, বশির এবং আহত ওই কলেজ ছাত্রের মধ্যে ফেসবুকের সূত্রে পরিচয় এবং বন্ধুত্ব। তদন্তে নেমে পুলিশ মনে করছে, ওই তিনজনের মধ্যে সম্ভবত সমকামী সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন অস্বাভাবিক যৌনাচারে লিপ্ত হয় তারা। সেখানেই ওই কলেজ ছাত্রের উপরে নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। বুধবারই মাধব মণ্ডল এবং বশির আলি নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

ছাত্রের পরিবার জানিয়েছে, অস্ত্রোপচারের পরেও তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্য দিকে ধৃতরা পুলিশের কাছে দাবি করেছে, ওই ছাত্র নিজেই বিকৃত যৌনচার করতে গিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।