সিঁথি থানায় পিটিয়ে খুনের অভিযোগে উত্তাল বাগবাজার। বিজেপির মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রৌঢ়র মৃত্যুর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সিঁথি থানা ঘেরাও কর্মসূচির কথা ঘোষণা করে বিজেপি। তবে অনুমতি না মেলায় বাগবাজার ঘাটে জমায়েত করেন তাঁরা। পুলিস এসে অবস্থান তুলতে গেলে শুরু হয়ে যায়  বিজেপি ও পুলিসের খণ্ডযুদ্ধ। ইতিমধ্যেই বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করেছে পুলিস।

আরও পড়ুন, ফের শুরু বউবাজারে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর টানেলের কাজ, অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট


পুলিশি সূত্রে খবর, পাইকপাড়া এলাকায় একটি আবাসন থেকে কল ও কলের পাইপ চুরির অভিযোগ ঘিরেই ঘটনার সূত্রপাত। এক মহিলা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন যে, তিনি গোটা পাঁচেক পেতলের কল চুরি করেছেন।আরও জানান যে, তিনি ওই কলগুলি বিক্রি করেছেন রাজকুমার সাউ নামে চিৎপুরের এক ব্যবসায়ীকে, যিনি পুরনো জিনিসপত্র কেনেন। এরপরেই থানায় ডেকে পাঠানো হয়  রাজকুমার সাউ নামের ওই ব্য়বসায়ীকে।   চুরির ঘটনার তদন্ত করতে চিৎপুরের এক ব্যবসায়ীকে ডেকে পাঠিয়েছিল উত্তর কলকাতার সিঁথি থানার পুলিশ। থানার ভিতরে জেরা চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রৌঢ় ব্যবসায়ী রাজকুমার সাউ। অচেতন অবস্থায় তাঁকে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। আর এরপরেই সিঁথি থানায় ওই প্রৌঢ়ের মৃত্যু এবং পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগকে ঘিরে গত সোমবার রাতে উত্তাল হয়ে ওঠে সিঁথি এলাকা। মৃত ব্যক্তি তাদের সমর্থক বলে দাবি করে ভিড় জমান বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। অপরদিকে, পাল্টা লোক আনে তৃণমূলও।  এরপরেই দফায় দফায় থানার সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। ওই ব্যক্তির অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার বাঁধে। সিঁথি থানার সামনেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তুলকালাম শুরু হয়ে যায়। ভাঙচুর করা হয় গাড়িও। 

আরও পড়ুন, এনআরসি আতঙ্ক, জন্মের প্রমাণপত্র তুলতে সংখ্যালঘুদের ভিড় কলকাতা পুরসভায়

লালবাজারের এক কর্তা জানিয়েছেন, ওই ব্যবসায়ীর উপর অত্যাচার করা হয়নি। গ্রেফতার করা হয়নি তাঁকে, শুধুই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। থানার মধ্যেই অচেতন হয়ে পড়েন ব্যবসায়ী। উল্লেখ্য়, এর আগেও অন্য একটি ঘটনায় সিঁথি থানায় জেরা চলাকালীন মৃত্যু হয়েছিল এক প্রৌঢ়ের। সেবার, অভিযুক্ত ছিলেন এক মহিলা এসআই।পুলিশি সূত্রে খবর, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ও দীনেশ পান্ডে উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি সহ ১৫০ জন কর্মী গ্রেফতার হলো বাগবাজার গীরিশ মঞ্চের সামনে থেকে।উল্লেখ্য, সিঁথিকাণ্ডে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৩ পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা আনা হয়। প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন  জানালেন উত্তম বণিক নামে এক ব্যক্তি। তবে তৃণমূল ও বিজেপি কীভাবে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছে।