শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতা মেট্রোরেলের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। দরজায় আটকে পড়া এক ঝুলন্ত যাত্রীর সুড়ঙ্গের মধ্যেই থার্ড রেলের উপর ছিটকে পড়ে তড়িদাহত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটার পরেই ফের একবার প্রশ্নের মুখে কলকাতা মেট্রোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কারণ রেকর্ড বলছে দরজায় যাত্রী আটকে, এই অবস্থায় ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়।

খুব বেশিদিন নয়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই এক যাত্রীর অর্ধেক শরীর দরজার বাইরে থাকা অবস্থায় চলতে শুরু করেছিল ট্রেন। এদিনের মতো সেই দিনও ঘটনাটি ধটেছিল পার্ক স্ট্রিট স্টেশনেই। সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটে আপ লাইনের একটি ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসার পর নামতে গিয়ে এক ব্যক্তি ট্রেনের দরজায় আটকে গিয়েছিলেন। তাঁর শরীরের একাংশ ট্রেনের বাইরে থাকা অবস্থাতেই এই অবস্থায় ট্রেনটি ছেড়ে দেয়।

সেই যাত্রায় ওই যাত্রী অবশ্য রক্ষা পেয়েছিলেন। তাঁর চিৎকার শুনে প্ল্যাটফর্মে থাকা অন্যান্য যাত্রীরা এবং আরপিএফের কর্মীরা ছুটে গিয়েছিলেন। তাঁদের তৎপড়তাতেই ট্রেনটি দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন চালক। ট্রেনটি ততক্ষণে প্রায় দুই বগির সমান দূরত্ব এগিয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ই প্রশ্ন উঠেছিল চালকের কাছে নির্দিষ্ট সময়ে খবর না পৌঁছলে কী হত?

আরও পড়ুন - ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরে মেট্রোর ভিতরে দমবন্ধ অবস্থা, আতঙ্কে যাত্রীরা, দেখুন ভিডিও

আরও পড়ুন - কলকাতায় কি এবার দরকার ওশিয়া! বিশ্বের জনবহুল শহরেগুলির মেট্রো-তে দেখা মেলে এঁদের

আরও পড়ুন - ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরে মেট্রোর ভিতরে দমবন্ধ অবস্থা, আতঙ্কে যাত্রীরা, দেখুন ভিডিও

২০১৭ সালে আবার দমদম থেকে ওঠা এক অধ্য়াপিকার ব্যাগ আটকতে গিয়েছিল মোট্রোর দরজায়। অফিস টাইমের তাড়াহুড়োয় মেট্রোয় উঠে গিয়ে তাঁর শরীরও প্রথমে দরজায় আটকে গিয়েছিল। কিন্তু সেই ধাক্কায় দরজাটি সামান্য খুলে গেলে তিনি কোনওক্রমে শরীরটা ভিতরে ঢোকাতে পেরেছিলেন। কিন্তু তাঁর কাঁধে থাকা ব্যাগটি এবং সেই সঙ্গে তিনি নিজেও দরজার সঙ্গে আটকে গিয়েছিলেন। বাঁদিকের দরজা হওয়ায় দমদম থেকে পার্কস্ট্রীট স্টেশন পর্যন্ত ২০ মিনিটের যাত্রাপথ ওই ভাবেই আতঙ্কিত যাত্রী দরজার সঙ্গে সেঁটে ছিলেন।

তারও বছর দুয়েক আগে আরও এক যাত্রী শ্যামবাজার স্টেশন থেকে মেট্রো ধরতে গিয়ে একই ভাবে দরজায় আটকে গিয়েছিলেন। তাঁরও শরীরের অর্ধেক অংশ দরজার বাইরে ঝুলছিল। ওই অবস্থায় কলকাতা মেট্রোর সুড়ঙ্গপথে অন্যতম দীর্ঘ অংশ শ্যামবাজার থেকে বেলগাছিয়া স্টেশন ছুটে গিয়েছিল ট্রেনটি। তাঁর সৌভাগ্য, এদিনের য়ুবকের মতো কোনও দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাননি। বেলগাছিয়ায় দরজা খুললে তিনি মুক্ত হন।  

প্রশ্ন হল কলকাতা মেট্রোর দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোলা-বন্ধ হয়। সেন্সর লাগানো থাকায় দরজা পুরো বন্ধ না হলে ট্রেন চলার কথা নয়। বছর খানেক আগে মেট্রো কতৃপক্ষ জানিয়েছিল, মেট্রোর দরজা একবার বন্ধ হয়ে খুলবে, আবার বন্ধ হবে। উপরের ঘটনাগুলির ক্ষেত্রে এবং এদিনও এই কোনও ব্যবস্থাই কাজ করেনি। ২০১৭ সালে কলকাতার মেট্রোর তরফে দাবি করা হয়েছিল, যাত্রীরা জোর করে দরজা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করায় কখনও মহিলাদের হাতের চুড়ি, মাথার ক্লিপ, ল্য়াপটপ ব্যাগের ক্লাচের মতো জিনিয় কামড়ার দরজায় ঢুকে যাচ্ছে। আর সেই কারণেই সেন্সর কাজ করছে না।

তবে শুধু যান্ত্রিক ব্যবস্থা নয়, ট্রেন ছাড়ার আগে সহ-চালক ও প্ল্যাটফর্মে থাকা মেট্রো কর্মীদেরও, সব দরজা বন্ধ হয়েছে কিনা তা দেখার কথা। কাজেই যাত্রীদের সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করে পার পেতে পারে না কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে, হুঁশ ফিরবে কি?