রাজ্য়ের অর্ধেকেরও বেশি করোনা সংক্রমিতের সংখ্য়া কেবল কলকাতাতেই। যার জেরে প্রতি পদে প্রশ্নের মুখে পড়ছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। অবশেষে  এই পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন কলকাতার মেয়র। ফিরহাদ বলেন, কলকাতায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে না অনেকেই । যার ফলে দ্রুত সংক্রমণ বাড়ছে। সচেতন না হলে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। 

রাজ্য়ে করোনা আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি কলকাতার,৭০০ থেকে একদিনে ৭৫৪..

বৃহস্পতিবারই মেয়র পদে সময়সীমা শেষ হচ্ছে পুরমন্ত্রী। মেয়াদ ফুরোনো পদে থাকতে পারবেন না, তাই কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে সরে  যেতে হবে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। যদিও প্রশাসক হিসাবে কলকাতা পুরসভার মাথা হতে চলেছেন ফিরহাদ। সূত্রের খবর,'রিমুভ্যাল অফ ডিফিকাল্টিস অ্যাক্ট' মেনে তাকেই দায়িত্বে আনা হচ্ছে। যা ঘিরে ফের একবার করোনা আবহে সরগরম হতে চলেছে রাজ্য় রাজনীতি। 

'টিকিয়াপাড়ার' মতো ঘটনা কাম্য় নয় , মুখ্য়সচিবকে কড়া চিঠি কেন্দ্রের.

এ নিয়েও মুখ খোলেন মেয়র। তিনি বলেন, কলকাতা পুরসভা চালানো কাঁটার উপর দিয়ে হেঁটে বেড়ানো এক জিনিস। পরিসংখ্য়ান  বলছে,রাজ্য়ে করোনা আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি সংখ্যা কেবল কলকাতাতেই। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে খোদ স্বাস্থ্য় দফতরের বুলেটিন। বুধাবারের এই বুলেটিনে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে কলকাতা শহরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্য়া ৭৫৪। যেখানে রাজ্যের মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৫৬ জন।

মেয়র থেকে প্রশাসক পদে ফিরহাদ!আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলীপের.

মঙ্গলবার মহানগরের করোনা আক্রান্তের সংখ্য়া ছিল ৭০০। সেখান থেকে একদিনে ৭৫৪। যা প্রমাণ করে সারা রাজ্যের তুলনায় কলকাতায় করোনা সংক্রমণের সংখ্য়া অনেক বেশি।  খোদ মহানগরকে নিয়ে এবার ভয় বাড়ছে স্বাস্থ্য় দফতরের। একা কলকাতাতেই লাফিয়ে  বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সোমবার পর্যন্ত কলকাতায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬৫৯। মাত্র চব্বিশ ঘন্টায় মহানগরে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪১ জন। যার জেরে মঙ্গলবার শহরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৭০০। 

রাজ্য়ের সাম্প্রতিক করোনা চিত্র বলছে,পশ্চিমবঙ্গে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল এই কলকাতাতেই। এবার আক্রান্তের হিসেবেও সবাইকে ছাপিয়ে যাচ্ছে শহর। হিসাবে অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্য়ের মোট করোনা আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক করোনা কেস পাওয়া গিয়েছে এই মহানগরেই।  আজ আরও ৫৪ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে, এমনই বলছে বুলেটিনের হিসেব। কলকাতায় এই মুহূর্তে করোনা অ্যাকটিভ রয়েছে ৫২৪ জনের দেহে। 

রাজ্য়ের বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, এপ্রিলে পুরভোটের দিনক্ষণ একপ্রকার ঠিক থাকলেও এখন তা অথৈ জলে। করোনার জেরে পুরভোট স্থগিত হয়ে যাওয়ায় কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। যার জেরে নিয়ম মেনে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই  রাজ্য সরকারের কাজ। এখানে তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এমনই জানিয়েছেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তবে সরকারি আধিকারিকদের পদে না বসিয়ে কেন তৃণমূলের লোকদের প্রশাসকের পদে বসানো হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।