হায়দাবাদ কাণ্ডের পর শহরের প্রতিটি থানায় বিশেষ নির্দেশ পাঠিয়েছেন  খোদ কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা। রাতে গাড়ি না পেলেও কি পুলিশ মহিলাদের বাড়িও পৌঁছে দেবে? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ম্যাসেজের বিভ্রান্তি চরমে। বিষয়টি আঁচ করে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করলেন লালবাজারের কর্তারা। কলকাতা পুলিশের অফিশিয়াল ফেসবুকে পেজে পোস্ট দিয়ে জানানো হয়েছে, বিপদে পড়লে বা  কোনও সমস্যা শহরবাসীকে সাহায্য় করতে সদা প্রস্তুত পুলিশকর্মীরা। কিন্ত রাতে মহিলাদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা বা পরিষেবা চালু হয়নি।

হায়দাবাদে তরুণী পশু চিকিৎসকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় শোরগোল পড়েছে গোটা দেশ। নিজের এলাকায় রাতে বিপদগ্রস্থ মহিলাদের সাহায্য করতে স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছে  এ রাজ্যের বহু সংগঠন, এমনকী, সাধারণ মানুষও। কোন এলাকায় বিপদে পড়লে সাহায্য মিলবে, কোন নম্বরে ফোন করতে হবে, তা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করা হয়েছে। পোস্টের নিচে কমেন্ট করে কিংবা পোস্ট নিজের ওয়ালে শেয়ার করে উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মহিলারা।  এভাবেই একজনের ওয়াল থেকে আর একজনের ওয়ালে ছড়িয়ে পড়েছে পোস্টগুলি। শুক্রবার থেকে আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে কলকাতার পুলিশের একটি বার্তা। সেই বার্তাটিকে শেয়ার করে যথারীতি পোস্টও দিচ্ছেন অনেকেই।  বার্তা বলা হয়েছে, কলকাতা রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মহিলাদের জন্য 'ফ্রি রাইড স্কিম' চালু করেছে কলকাতা পুলিশ। রাতে বাড়ি ফিরতে গিয়ে যদি কোনও মহিলা সমস্যায় পড়েন, তাহলে লালবাজারের বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর ফোন করতে পারে। বিনা পয়সা গাড়িতে চাপিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিতে আসবেন পুলিশকর্মীরা।

কলকাতা পুলিশ এখন সোশ্যাল মিডিয়াতেও যথেষ্ট সক্রিয়। মহিলার জন্য ফ্রি রাইড স্কিম সংক্রান্ত বার্তাটি নজরে পড়েছে লালবাজারের কর্তাদেরও।  শনিবার ফেসবুকে কলকাতা পুলিশের অফিশিয়াল পেজে পোস্ট দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল, কলকাতা পুলিশ মহিলার জন্য রাতে ফ্রি রাইড প্রকল্প চালু করেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে বার্তাটি ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়। 

 

উল্লেখ্য, কলকাতা না থাকলেও  লুধিয়ানা শহরে কিন্তু মহিলাদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে কিন্তু অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পাঞ্জাব পুলিশ। লুধিয়ানার পুলিশ কমিশনার রাকেশ আগরওয়াল জানিয়েছেন, যদি কোনও মহিলা সন্ধে বা রাতে  ক্যাব না পান, সেক্ষেত্রে পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করতে পারেন।  তাঁকে বিনামূল্য গাড়িতে করে বাড়ি বা গন্তব্যে পৌঁছে দেবে পুলিশই।