দেশের সঙ্গে 'পাল্লা দিয়ে' রাজ্যেও ঘটে চলেছে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা। যার সাম্প্রতিক উদাহরণ কালীঘাটে দুই নাবালিকার  ওপর পাশবিক অত্য়াচার। অথচ সব দেখেও নীরব রাজ্যবাসী। পঞ্চসায়রে মানসিক রোগী থেকে কালীঘাটের নাবালিকা, এদের কথা চিন্তা করে না কেউ। রাজ্য়ে ধর্ষণের সাম্প্রতিক অতীত বলছে, কিছুদিন আগেই পঞ্চসায়রের হোম থেকে রাস্তায় বেরিয়ে ধর্ষণের শিকার হন ত্রিশ উর্ধ্ব এক মহিলা।  ই এম বাইপাস সংলগ্ন পঞ্চসায়র এলাকায় মানসিক রোগী ওই মহিলাকে গাড়িতে তুলে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। 

নির্যাতনের পর মহিলাকে সোনারপুর এলাকায় রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। পঞ্চসায়রের একটি হোমের বাসিন্দা ওই মহিলা ঘটনার দিন রাতে হোমের তালা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন। সেই সুযোগেই গাড়িতে তুলে তাঁকে নির্যাতন করে উত্তম এবং তার সঙ্গী। জেরায় তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, হোমে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্যাতিতাকে গাড়িতে তুলেছিল উত্তম। এর পরেই তার উপরে নির্যাতন চালানো হয়। 

একই ঘটনা ঘটে কালীঘাটে। টাকার প্রলোভন দেখিয়ে দুই নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সেখানে।  সূত্রের খবর, কালীঘাট মন্দির সংলগ্ন ফুটপাতে দুই নাবালিকা থাকতেন। দুজনেই ভিক্ষাজীবী। অভিযোগ,দুই নাবালক তাদের মাটি তোলার কথা বলে আদিগঙ্গার ধারে নিয়ে যায়। মাটি  তুলে দিলে দশ টাকা করে দেওয়ায় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় তাদের। সেখানেই বসে মদের আসর। পরে কিছুদূর যাওয়ার পর ওই নাবালিকাদের আদিগঙ্গার ঝোপে টেনে নিয়ে যায় দুই নাবালক। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় আরও একজন। পরে তিনজনে মিলে দুই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। 

সম্প্রতি রাজ্যে একের পরে এক ধর্ষণের কথা সংসদে তুলে ধরেছেন হুগলির সাংসদ তথা বিজেপি মহিলা মোর্চার নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। সংসদে রাজ্য়ের ধর্ষণের কথা শুনে শেম শেম করতে থাকেন এনডিএ-র সাংসদরা। লকেটের কথার তীব্র প্রতিবাদ জানান তৃণমূলের সাংসদরা। বিজেপি বিরোধিতা করলেও লকেটের কথা যে প্রাসঙ্গিক, তা মেনে নিয়েছে রাজ্যের বুদ্ধিজীবী মহল। 

রাজ্য রাজনৈতিক মহলের মত, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তৃণমূল নেত্রী বা শাসক দলের চক্ষুশূল হতে চান না বলেই রাজ্যের ধর্ষণ নিয়ে মুখ খোলেন না তাঁরা। অতীতেও যার একাধিক উদাহরণ দেখেছে রাজ্যবাসী। হায়দরাবাদের পশু চিকিৎসক ধর্ষণের পর ফের চোখে পড়ছে একই দৃশ্য। 'ঘরের মেয়ের দুঃখে কান্না নেই, পরের মেয়ের জন্য জল রাজ্য়বাসীর।'