স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলে গোটা অগাস্ট মাসে কলকাতায় ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা। কিন্তু শনিবার একদিনেই গোটা কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ১৯১ মিলিমিটার। অর্থাৎ গোটা মাসে যা বৃষ্টি হওয়ার কথা, মাত্র চব্বিশ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে তার অর্ধেকেরও বেশি। শুধু তাই নয়, একদিনের বৃষ্টিতেই শহরের বৃষ্টির ঘাটতির পরিমাণ ৪৪ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ২৮ শতাংশ। 

শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া একটানা ভারী বর্ষণে শনিবার নাজেহাল হতে হয় শহরবাসীকে। শনিবার বিকেলের পরে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমার পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। আবহ দফতর অবশ্য জানিয়েছে, রবিবারও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে কলকাতা-সহ সংলগ্ন এলাকাগুলিতে। 

আরও পড়ুন- মুম্বই, চেন্নাইয়ের থেকে ভাল কলকাতা, জমা জল নিয়ে দাবি মেয়রের

আরও পড়ুন- টানা বৃষ্টিতে ভাসল শহর কলকাতা, রাস্তায় জল, যানজট

আলিপুর আবহ দফতরের অধিকর্তা গণেশচন্দ্র দাস শনিবার জানান, 'যে ঘূর্ণাবর্তটির জেরে শনিবার ভারী বৃষ্টি হয়েছে, সেটি শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হচ্ছে। ফলে রবিবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েকবছরে কলকাতায় একটানা দু' দিন ভারী বৃষ্টির নজির সেরকম নেই। তবে এই টানা বৃষ্টির জেরে কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গে বর্ষার ঘাটতির পরিমাণ কমবে।' গত বছর কলকাতায় একদিনে সর্বোচ্চ ১৬২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। 

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিককর্তা জানিয়েছেন, যেহেতু ঘূর্ণাবর্তের উৎস ছিল দক্ষিণবঙ্গ এবং সংলগ্ন বাংলাদেশ, তাই এর প্রভাব পড়েছে গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, বঙ্গোপসাগরের উপরে কোনও ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপ তৈরি হলে সেগুলি সাধারণত ওড়িশা বা বাংলার উপকূলবর্তী জেলাগুলির দিকে সরে যায়। যার ফলে দক্ষিণবঙ্গের মূল ভূখণ্ড সেভাবে বৃষ্টি পায় না। কিন্তু এবার যেহেতু মূল দক্ষিণবঙ্গের উপরেই ঘূর্ণাবর্তটি তৈরি হয়েছে, তাই কলকাতা এবং গোটা দক্ষিণবঙ্গেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে।